শিরোনাম:

‘আমাকে তোমরা মাটি দিও’

জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭, ০২:২৩
অ-অ+
‘আমাকে তোমরা মাটি দিও’
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

ঝালকাঠি: প্রেম কোন কিছুতেই বাধা মানেনা। তাইতো যে কাউকে ভালবাসা যায়। এতে কোন বাধা নেই। যদি কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয় তাহলে যে কি হয় সেই তা ভাল জানে। বর্নিতা হাওলাদার ভালবাসতো তার শিক্ষক ইন্দ্রজিতকে। হাওলাদার নামে ওই স্কুলছাত্রী প্রেমে সার্থক হয়নি। তাই চিরকুট লিখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সে। কিন্তু আত্মহত্যা করতে গিয়েও তার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়নি। হয়তো আরো কিছু প্রেম দেখার বাকি ছিল তার। কিন্তু না তা আর হলো না। দীর্ঘ ২ মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (১২ আগস্ট) সে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়।
 
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের পশ্চিম চারাখালি হাফেজ উদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুমার দাস বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেম করে ওই স্কুলের ৯ম শ্রেণির ১ম রোলধারী ছাত্রী বর্নিতা হাওলাদারের (১৫) সাথে। কিন্তু পরে ওই শিক্ষক তাকে অস্বীকার করায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা যায় তার লেখা চিরকুট থেকে।
 
স্থানীয়রা জানান, পুলিশ ওই ছাত্রীর বাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এবং ছাত্রীর পরিবার এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্নিতা দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের বিপুল হাওলাদারের মেয়ে এবং ইন্দ্রজিৎ পশ্চিম চারাখালি গ্রামের রমেশ চন্দ্র সাথের ছেলে । 
 
স্কুলছাত্রী বর্নিতার ভাই বিপ্লব হাওলাদার ব্রেকিংনিউজকে জানান, বর্নিতার স্কুলের শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুমার দাস বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বাড়িতে যাওয়া-আসা করতো। সম্প্রতি বর্নিতার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। পরে বিয়ের জন্য বিভিন্ন স্থানে মেয়ে দেখা শুরু করেন। এ খবর নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হলে বর্নিতাকে গিফট দেয়া মোবাইল ফোনটি ইন্দ্রজিত কৌশলে নিয়ে গিয়ে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এসব ঘটনার জের ধরে গত ৮ জুন গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বর্নিতা। পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিকভাকে তাকে উদ্ধার করে প্রথম রাজাপুর, পরে বরিশাল শেবাচিম ও সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো হয়। গত ৩ আগস্ট হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
 
তিনি আরো জানান, বর্নিতা প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রতি শ্রেণিতে প্রথম ছিল এবং যথেষ্ট মেধাবী হওয়ায় তার স্বপ্ন ছিল জজ হওয়ার। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ইংরেজিতে বক্তব্য দিতো বর্নিতা। বর্নিতার স্ব-হস্তে লেখা চিরকুটেও তার জজ হওয়ার স্বপ্ন এবং তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্কুলের শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার দাসকেই দায়ি করেছে বর্নিতা। পরিবারের প্রতি তার অনুরোধ ইন্দ্রকে যেন শেষ করে দেয়। 
 
বর্নিতা চিরকুটে তার পরিবারকে উদ্দেশ করে লেখে, ‘জানি আমার দাদায় তোমাদের ভালো রাখবে। কোনদিনও কষ্ট দেবে না। আমাকে তোমরা মাটি দিও। আমি আবারও বলছি আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইন্দ্রজিৎ দাস। তোমরা সবাই ভালো থাকবে।’
 
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস ব্রেকিংনিউজকে জানান, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
 
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এসজেড