শিরোনাম:

গণধর্ষণের দায়ে যুবলীগ সভাপতি গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৮:৩২
অ-অ+
গণধর্ষণের দায়ে যুবলীগ সভাপতি গ্রেফতার
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহ: জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভাটিচর নওপাড়া এলাকায় যুবতীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গণধর্ষণের দায়ে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বোরহান উদ্দিনকে গ্রেফতার  করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ওই যুবলীগ সভাপতিতে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর বিকেলে ময়মনসিংহের ১নং আমলী আদালতে তাকে সোপর্দ করা হয়। এসময় আদলতের বিজ্ঞ বিচারকের উপস্থিতে ধর্ষণের কথা শিকার করে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দেন বোরহান। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

একই সঙ্গে রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে পুলিশ ভিকটিমকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জ জেলার ফজলুল হকের কন্যা ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের ভাটিচর নওপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জুয়েল মিয়া গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বান্দাবাড়ি গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ের সাথে এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের দু’জনের পরিচয় হয়।

এরপর থেকে জুয়েলের সাথে ওই মেয়ের মোবাইল ফোনে কথা বলা শুরু হয়। ফোনের মাধ্যমে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

প্রেমের ফাঁদে পরেই জুয়েলের সাথে দেখা করতে ওই মেয়ে তার বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে গত ৬ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ সদর বাস স্টেশনে পৌঁছে।

পরে সেখান থেকে দুই বোনকে নিয়ে জুয়েল সিএনজি যোগে উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের লাটিয়ামারী বাজার বেড়িবাঁধ এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের বালুর চরে তাদের দু’জনকে নিয়ে যায়।

পরে রাত ১১টার দিকে জুয়েল ও তার সহযোগীরা বড় বোনকে আটকে রেখে ছোট বোন ভিকটিমকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সেই সাথে তাদের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ও দুটি মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, নগদ টাকাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যায় ধর্ষকরা।

পরে ভোরে অসুস্থ অবস্থায় বড় বোনের সহায়তায় ওই এলাকার আক্তারুজ্জামানের বাড়িতে আশ্রয় নেয় তারা।

আক্তারুজ্জামান ঘটনার বিবরণ শুনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে গেলে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে আশে-পাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে সত্যতা পেয়ে ওই নারীকে আইনের আশ্রয় নিতে বলে।

পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই নারী বাদী হয়ে জুয়েল মিয়াসহ ৯ জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোদাব্বিরুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে জানান, এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের পরিচয় পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভিকটিমকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায়  ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষকদের মধ্যে যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি বোরহানকে গ্রেফতার করা হয়। জুয়েলসহ অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

ব্রেকিংনিউজ/এমএস