শিরোনাম:

ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭, ১২:৫৩
অ-অ+
ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

কুমিল্লা: জেলার নাঙ্গলকোটে ভুল চিকিৎসায় এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা পৌর সদর বাজারের ‘নাঙ্গলকোট মেডিকেল সেন্টার’ নামক প্রাইভেট ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। 

এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই ক্লিনিকটিতে ভুল চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে অন্তত ৩ রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রফাদফা করা হয়েছিল। 

চিকিৎসা শাস্ত্রের পরিপন্থী হয়ে একই চিকিৎসক অবেদনবিদ ও অস্ত্রোপচারের কাজ করায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। রবিবার (১৩ আগস্ট) ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মনির হোসেন মুঠোফোনে একই চিকিৎসক দিয়ে অবেদন ও অস্ত্রোপচারের কাজ করানোর কথা স্বীকার করেছেন।

রোগীর স্বজন ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (২৮) গত ৩ আগস্ট দুপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই ডা. জসিম উদ্দিন চৌধুরী তাকে অচেতন ও অস্ত্রোপচার করেন। এর ২ দিন পর আমির হোসেনের শরীরে ফুলাসহ তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। তখন তড়িগড়ি করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর কুমিল্লার মুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘রোগী (আমির হোসেন) আমাদের এখানে খুব খারাপ অবস্থায় আসে। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারিনি। এই রোগীর ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা হলো একদম অস্বাভাবিক ঘটনা। কেননা এ অপারেশনটি ছোট কিন্তু এক্ষেত্রে ডাক্তার বড় ধরনের ভুল করেছেন। যেমন অপারেশনের পর সুতার গিট অর্থাৎ বাঁধা সঠিক না হওয়ার কারণে মূলত এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মনির হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমির হোসেন এ্যাপেন্ডিসের ব্যথা নিয়ে আসে। তখন ডা. জসিম উদ্দিন তাকে দেখাশোনার পর অপারেশন করেন। ওই রোগীকে কোন চিকিৎসক অচেতন করেছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ডা. জসিম উদ্দিন তাকে অচেতন করেছেন। যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাংঘর্ষিক বটে।’

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) আসবো তখন আপনার সাথে সরাসরি কথা হবে বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর তাকে বারবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান রবিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে মুঠোফোনে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি যেহেতু বলেছেন আমি খোঁজ নিচ্ছি। যদি কারও গাফিলতি থাকে তাহলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/এমএস