শিরোনাম:

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৩২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭, ০২:২৭
অ-অ+
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৩২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

কুড়িগ্রাম: অভিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার রাজারহাটে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এতে ওই এলাকার ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মহাসড়কে পানি উঠে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এলাকার ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে চরম অবনতি হওয়ায় উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ধরলার কালুয়া ও বাংটুর ঘাট বাঁধ ভেঙে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, তিস্তা নদীর পানিও বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলো ডুবে যাওয়ায় চরের প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 



অনেক পানিবন্দি পরিবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাঁধে এবং অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া ঘরে পানি উঠায় অনেকে মাচা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এদিকে, ধরলা নদীতে ৩ টি লাশ ভেসে এসেছে বলে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষেরা জানিয়েছেন। 

বন্যা কবলিত এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। ওই সব ক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি, শতশত পুকুর। কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া চরের শত শত মানুষ, গবাদি পশু-পাখি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

ছিনাই ইউনিয়নের ছিনাই কিং আবুল হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর তৈয়ব খা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নামাভরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগুড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিতাব খা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছিনাই হাট বড় ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিশামত ছিনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেখলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঘব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালুয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুসুল্লী পাড়া দাখিল মাদ্রাসাসহ ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় প্রতিষ্ঠনগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যা কবলিত মানুষ আশ্রয় নেয়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।



রবিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী, জেলা প্রশাসক আবু ছালে মো. ফেরদৌস খান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুস ছালাম ছিনাই ইউনিয়নের  বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মইনুল ইসলাম জানান, বন্যা কবলিত পানিবন্দি আড়াই হাজার পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল, শুকনা চিড়া-গুড়-মুড়ি-চিনি বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ৪০ হাজার টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিতদের জন্য আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে ছিনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বুলু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে এলাকার সব বাড়ি-ঘর পানির নিচে তলিয়ে যাবে। দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছি।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে জানান, কুড়িগ্রাম ধরলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৮ সে.মি উপর দিয়ে এবং তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্ট বিপদসীমার ২৯.০৪ সে.মি নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএস