শিরোনাম:

মানিকগঞ্জে ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণ অপ্রতুল

জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭, ০৭:৪৮
অ-অ+
মানিকগঞ্জে ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণ অপ্রতুল
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

মানিকগঞ্জ: যমুনায় পানি কমলেও মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অভ্যান্তরীণ নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নতুন নতুন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

বন্যায় জেলার প্রায় ২ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কাঁচা-পাকা ৭২ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য ২৮টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং ৪৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫শ’৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
 
এছাড়া বন্যায় সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় জেলার সাথে হরিরামপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হরিরামপুর উপজেলায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে গত কয়েকদিনে নদী ভাঙনে প্রায় ২০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ত্রাণসামগ্রী অপ্রতুল হওয়ায় বন্যায় বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্তরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
 
সরজমিনে দেখা গেছে, শিবালয়ের আলোকদিয়ার চর এলাকায় সবার-বাড়ি ঘরেই পানি উঠেছে। বন্যাকবলিত এ এলাকার লোকজন ঘরে তালা দিয়ে গরু ছাগল নিয়ে অশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। আবার কেউ, কেউ পানির ওপর মাচা বানিয়ে শিশুসহ পরিবারের সকলকে নিয়ে বাড়িতেই থাকছে। পোক-মাকড়ের ভয়ে সারারাত কুপিবাতি জ্বালিয়ে রাত কাটাচ্ছে। খাদ্য সংকটের পাশাপাশি খাবার পানির সংকট রয়েছে। ল্যাট্রিন ডুবে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশনেও অসুবিধায় পড়ছে তারা। এভাবে পানিবন্দি হাজারো  মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
 
চরশিবালয়ের আজমল হোসেন বলেন, ‘বন্যার শুরু থেকেই আমরা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছি। এ পর্যন্ত কোন ত্রাণসামগ্রী পাইনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’  

একই এলাকার এমদাদুল হক, এনছাপ ও এরশাদ মোল্লা বলেন, ‘ঘরের মধ্যে হাঁটু পানি, আশ্রয় কেন্দ্রেও যাইনি। পানির উপর মাচা তৈয়ার করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়িতে আছি। এ পর্যন্ত সরকারি কোন ত্রাণই পাইনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।’
 
শিবালয় ৩নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণসামগ্রী খুবই কম। অপ্রতুল ত্রাণ দিতে গিয়ে আমাদের নানা ধরনের সমস্যার সন্মুখীন হতে হচ্ছে। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ত্রাণ নিয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি। 

জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, এ পর্যন্ত জেলার বন্যাকবলিত লোকজনের মাঝে ১০৭মেট্রিক টন চাল এবং  নগদ সাড়ে ৩লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আবারও বরাদ্ধ এসেছে, পর্যায়ক্রমে তা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ