শিরোনাম:

ধান সংকটে বন্ধ ৫৭০ চাতাল কল

আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১০:০১
অ-অ+
ধান সংকটে বন্ধ ৫৭০ চাতাল কল
ফাইল ফটো

পাবনা: জেলার ঈশ্বরদী উপজেলাতেই রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬৫০টি চাতাল কল। বর্তমান বাজারের অস্থিরতায় যার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৫৭০টি চাতাল কল। সচল রয়েছে মাত্র ৮০টি। চাতাল কল মালিকরা বলছেন, ধান সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরেই সংকটে পড়েছে এ উপজেলার চালকলগুলোর উৎপাদন। ফলে এক দিকে বেড়েছে চালের দাম, অন্যদিকে কমেছে বেচাকেনা।

চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ পড়েছে মহাবিপাকে। অপরদিকে, বাজারের এই অস্থিরতায় বেশিরভাগ চাতাল কল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে ভোক্তা সাধারণেরই ওপর।

চাল নিয়ে কথা চালাচালিতে যখন সারাদেশ সরগরম, ঠিক সে সময়ে অনেকটাই নিস্তব্ধ উত্তরের জেলা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর চালের মোকাম। মোটা চাল সরবরাহকারী দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মোকাম এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। দফায় দফায় চালের মূল্যবৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে এ সংকট। গত একমাসে পাবনার মোকামগুলোতে প্রকারভেদে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা। নজিরবিহীন এ মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

এ বিষয় নিয়ে রিকশাচালক শমছের আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে ও কামলা খাইটে যে কয় টেকা পাই তাতে চাল কিনতিই টেকা শেষ হয়া যায়। এবা কইরে কয়দিন চলবো। সরকার এক টেকা দাম বাড়ালি, মিল মালিক বা ব্যবসায়ীরা বাড়ায় ১০ টেকা। কিন্তু দাম কুমার সময় আর ১০ টেকা কমে না। দশ টেকা দাম বাড়ায়া এক-দুই টেকা দাম কমালি কি হিসাব মেলে। যা কষ্ট সব ওই আমাগোরে কামলা মানুষের। বড়লোকের তো কোনো সমস্যা নাই।’ কথা হয় বেশ কয়েকজন নানা শ্রেণির দিনমজুরের সাথে। তাদের মন্তব্য, ‘সরকার পারবিলা তে কয় ক্যা। হয় চালির দাম কুমাক। না হয়তে নামি যাক।’

ঈশ্বরদী উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুর রহমান মালিথা জানান, ঈশ্বরদীর মোকামে ছোট বড় মিলিয়ে চাতাল কলের সংখ্যা ৬৫০। অথচ ধান সংকটের কারণে এ মৌসুমে সচল রয়েছে মাত্র ৮০টি। সরকারি গুদামে যে আপদকালীন মজুদ সেটার অবস্থা খুবই নাজুক। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বা মিল মালিক। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ধান সংগ্রহে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কব্জা করেছে কয়েকটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। কখনো গুজব রটিয়ে আবার কখনও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে স্বার্থসিদ্ধি হচ্ছে তাদের। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ অটো রাইসমিল মালিকরা। এজন্য সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি তাদের।

ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, এখন ধান কিনে চাল তৈরির পর তা বিক্রি করতে গেলে লাভের বদলে ট্রাক প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। ধান সংকট তো আছেই। যে কারণে চালের মোকামে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

চাতাল মালিকরা জানান, মোকামে ক্রেতাশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চালু চাতালগুলোতে যা চাল উৎপাদন হচ্ছে, তাও বিক্রি হচ্ছে না বললেই চলে। চাল ক্রেতার অভাবে বেশিরভাগ চালই অবিক্রিত পড়ে থাকছে। চালের বাজার বেড়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানান উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম।

উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী মিনিকেট, বিআর-২৮, বিআর-২৯, পারিজা, নতুন গুটি স্বর্ণা, বিনা-৭ ও বিআর-৩৯ চালসহ এই মোকামে উৎপাদিত সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। 

উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা জানান, বাজারে ধানের দামের সঙ্গে চালের বাজার মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় ঈশ্বরদী মোকামে উৎপাদিত চালের মূল্য বাড়ছে। বর্তমানে ঈশ্বরদী মোকামের মিলগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন চালের আড়তে থাকা চালগুলো বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাফিউল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে ধান বা চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সেই মজুদদার বা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলছে। আমরা কোনও ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইনা। কিন্তু কেউ যদি সরকারের ইমেজ নষ্টের অপচেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/এমএস