শিরোনাম:

নাঙ্গলকোট হাসপাতালে সরিষার ভেতর ভূত

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:২৯
অ-অ+
নাঙ্গলকোট হাসপাতালে সরিষার ভেতর ভূত
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

সবাইকে নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করার ‘নীতি’ কথা বলেই অনিয়ম করেন তিনি। এ যেন নীতির রাজার দুর্নীতি। প্রথমে তিনি অধীনস্থদের কাছে ছিলেন নীতিবান অফিসার। এখন তাদের কাছে তিনি দুর্নীতির হেড কোয়ার্টার। যাকে নিয়ে এত অভিযোগ অনুযোগ আর আতঙ্ক তিনি দেব দাস দেব। সে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও)।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মকর্তা ২৯ সেপ্টেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে মিটিং করেন। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিকদের সাথেও মিটিং করেন। এসময় তিনি সবাইকে নীতি আদর্শ মতে চলা ও অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। কিন্তু কয়েকদিন গড়াতেই তার আসল রুপ বেরিয়ে আসে। অল্প কয়েকদিনেই উপজেলার স্বাস্থ্য সেবাকে অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে রুপান্তর করে তোলেন।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার আল্ট্রা মর্ডান হসপিটালে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেব দাস দেব। পরদিন ৪ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টায় স্থানীয় নোভা হসপিটালে আসেন তিনি। অফিস চলাকালীন ওই দু’টো হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের রোগীকে অচেতন করতে এসেছিলেন। এভাবে প্রতিদিন নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়ার কোন না কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে অস্ত্রেপচারের রোগীদের অজ্ঞান করছেন তিনি। আবার ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন। এ কর্মকর্তা ডাক্তার থেকে শুরু করে প্রশাসনের ধোঁপার বিলে পর্যন্ত পার্সেন্টেসের ছোঁয়া লাগিয়েছেন। ধোঁপার বিলসহ ল্যাব থেকে শতাংশ হারে এবং অন্যান্য বিলগুলো থেকেও নির্ধারিত পার্সেন্ট নিয়ে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, প্রশাসনিকভাবে দেব দাস আমাদের বস। এজন্য কিছু বলতে পারি না। কিছু বললে তিনি বিভিন্ন হুমকি দেন। আমাদেরকে অফিস টাইমে প্রেকটিস করতে নিষেধ করেছেন। অথচ তিনিই আবার অফিস টাইমে অপারেশন করছেন। ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব দাস মোবাইলে বলেন, আপনি একসময় অফিসে আসেন কথা বলবো। এ কথা বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন এবং পরে আর ফোন ধরেননি।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, আমি এরকম কোন দুর্নীতির খবর জানিনা। কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ছাড় দেয়া হবে না।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/  এমএইচ