শিরোনাম:

জনপ্রিয় হচ্ছে টার্কি পালন

আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী, পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৩৮
অ-অ+
জনপ্রিয় হচ্ছে টার্কি পালন
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

পাবনার পল্লী এলাকাগুলোতে হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি সৌখিনতাই এখন বাণিজ্যিক রূপ পেয়েছে টার্কি পালন। সৌখিনতার বসতঃ টার্কি পালন হলেও এখন বেকারত্ব দুরকরণের অন্যতম পেশায় পরিণত হয়েছে। আর এই টার্কি পালনে অধিক মুনাফায় দিনদিন ঝুঁকছে এই পেশায় নানা শ্রেণির মানুষ।

সরেজমিনে জানা গেছে, পাবনার চাটমোহর উপজেলার বোঁথর গ্রামে টার্কি পালন করছেন সোহেল রানা টুটুল (৩৮)। ছয় মাস আগে শখের বশে নাটোর থেকে ১০টি টার্কির বাচ্চা ক্রয় করেন। সেগুলো বর্তমানে বড় হয়ে ডিম দিয়েছে। সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বর্তমানে ৪০টির মত ছোট বড় টার্কি তার খামারে। কিছু টার্কি ডিম দিচ্ছে এবং গড়ে সপ্তাহে ১০০/১২০টি ডিম পাচ্ছেন তিনি। প্রতি হালি (চারটি) ডিমের দাম বর্তমান বাজার মূল্যে ৬০০/৮০০ টাকা। দেশী মুরগি দিয়ে টার্কির ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে ৭দিন বয়সী প্রতি বাচ্চার মূল্য ৪০০/৫০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, পূর্ণ বয়স্ক একটি টার্কি বছরে ২০০/২৫০টি ডিম দেয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা হবে। সম্পূর্ণ কোলেষ্টরেল মুক্ত, প্রচুর পুষ্টিগুন সম্পন্ন মাংশ পাওয়া যায় এ থেকে। একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কি ৭/৯ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
 
সোহেল আরো জানান, আমি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি এ টার্কি পালন করে আর্থিকভাবে বেশ ভাল মুনাফা লাভ করছি। টার্কি লালন পালনে তেমন কোন বাড়তি ঝামেলা নেই বললেই চলে। এদের খাবার সহজলভ্য হওয়ায় যোগান দিতে তেমন কোন সমস্যা হয়না। শাকসবজি, ঘাসসহ সবুজ লতা পাতা এদের প্রধান খাদ্য। দেখভালের জন্য আমার পরিবারের অন্য সদস্যরাই প্রধান দায়িত্ব পালন করে থাকে। আমার কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি এগুলো দেখভাল করি।
 
অপর টার্কি পালনকারি চাটমোহরের মথুরাপুর ইউনিয়নের উথুলী গ্রামের স্বপন বিশ্বাস (৪৫) গাজীপুরের একটি মিশনারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৮৮ সালে এইচএসসি পাস করেন। একটি বেসরকারি সংস্থায় ১৮ বছর চাকরি করার পর এখন স্থায়ীভাবে নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন। নিজের চার বিঘার একটি পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য কয়েক মাস যাবত টার্কি পালন শুরু করেছেন। বাড়ি এবং পুকুর ছাড়া অন্য কোন জমা জমি নেই।

তিনি জানান, “তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে টার্কি পালন সম্পর্কে জানতে পারি আমি। এ সম্পর্কে আলাপ হয় ঢাকার বাড্ডা এলাকার এক ব্যক্তির সাথে। তার পরিচিত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার টার্কি পালনকারী সেলিম সরকার। সেলিম সরকারের সাথে যোগাযোগ করে গত মার্চ মাসে দুই হাজার পাঁচশ টাকা জোড়া হিসেবে একমাস বয়সী বিশটি আমেরিকান প্রজাতির টার্কির বাচ্চা ক্রয় করি। বিশটি বাচ্চাই টিকে যায়। বাচ্চাগুলো ছয় মাস পালনের পর গত সেপ্টেম্বর থেকে বারোটি টার্কি ডিম দিচ্ছে। বর্তমান প্রতি হালি ডিমের দাম ছয়শ টাকা। নিজে ইনকিউবেটরে ডিম থেকে বাচ্চা তৈরি করছি। এ পর্যন্ত আশিটি বাচ্চা উৎপাদন করেছি। দুইশ ডিম ইনকিউবেটরে আছে। আশিটি সাত দিনের বাচ্চা পাঁচশ টাকা পিস হিসবে চল্লিশ হাজার টাকায় বাচ্চা বিক্রি করেছি।

তিনি আরো জানান, “টার্কির রোগ খুব কম। সাত দিন বয়সে এক ডোজ এবং এক মাস বয়সে এক ডোজ রাণীক্ষেত রোগের টিকা দেয়া হয়। স্থানীয় পশু সম্পদ অফিস টিকা সরবরাহ করে। পরিণত বয়সে এক একটি টার্কির ওজন দশ বারো কেজি পর্যন্ত হয়। এক একটি টারকি চার পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। টার্কির মাংসে চর্বির পরিমাণ কম থাকে। মাংস এবং ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে টার্কি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে তাই আমি এলাকার মানুষকে টার্কি পালনে অনুপ্রেরিত করছি”।

বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সরকারিভাবে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে উৎসাহী বেকার যুবকদের মাঝে টার্কি পালনে উৎসাহিত করলে বেকারত্ব দুরীকরণের পাশাপাশি সাংসারিক স্বচ্ছলতা আনায়নে এটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ