শিরোনাম:

১৫ মাস পর তোলা হলো রমেশ টুডুর দেহাবশেষ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৩:৩২
অ-অ+
১৫ মাস পর তোলা হলো রমেশ টুডুর দেহাবশেষ

১৫ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রমেশ টুডু নামে এক সাঁওতালের দেহাবশেষ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সিন্টাজুড়ি গ্রাম থেকে রমেশ টুডুর দেহাবশেষ কবর থেকে তোলে গাইবান্ধা পিবিআইয়ের সদস্যরা। 

এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের ঘটনায় রমেশ টুডুকে মারধর করা হয় বলে জানান তার মেয়ে জোসনা টুডু। আর এ কারণের তার মৃত্যু হয়। 

জোসনা টুডু বলেন, ‘আমার বাবার কোন অসুখ ছিল না। বাবাকে ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল ও এমপি আবুল কালাম আজাদ পিটিয়েছে। এর দুইদিন পর আমার বাবা মারা গেল। বাবাকে হত্যার আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’ 

এছাড়া সেদিনের ওই ঘটনায় শ্যামল হেমরম ও মঙ্গল মার্ডি নামের আরও দুইজন সাঁওতাল মারা যান। 

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শিহাব মো. রেজওয়ানুর রহমান বলেন, রমেশ টুডুকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। এখন তার মরদেহ গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হবে, সেখানে মেডিকেল বোর্ড তার ময়নাতদন্ত করবেন। এরপর ডিএনএ টেস্ট করার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হবে। এটা একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তবে খুব বেশি দেরি হওয়ার কথা নয়, তাড়াতাড়িই আমরা কারণ জানাতে পারবো। 

গাইবান্ধা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, আমরা প্রথমে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখি এই মামলায় তিনজন লোক মারা যাওয়ার অভিযোগ আছে। দুইজনের ময়না তদন্ত হয়েছে, একজনের ময়নাতদন্ত হয় নাই। এজন্য ময়নাতদন্তের জন্য প্রথমে বাদীপক্ষের লোকজন আদালতে আবেদন করলে সেটি মঞ্জুর হয় নাই। পরে আমি আবেদন করলে সেটি মঞ্জুর হয়। 

উল্লেখ্য, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ও সাপমারা ইউনিয়নের সাঁওতাল ও বাঙ্গালীদের কাছ থেকে ১৯৬২ সালের ৭ জুলাই ১ হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি কিনে নেয় রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ। পরে শর্তভঙ্গের অভিযোগ তুলে বাপ-দাদার জমি ফেরতের দাবি করে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে সাঁওতাল-বাঙ্গালীরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৬ সালের ১ জুলাই সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকায় চিনিকলের সেসব জায়গা দখল করে ঘরতৈরি করে সাঁওতাল-বাঙ্গালীরা। 

পরে সে বছরেরই ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ কাটতে গেলে সাঁওতাল-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন সাঁওতাল মারা যায় ও তীরবিদ্ধ হয়ে আহত হয় পুলিশসহ প্রায় ২০ জন। ঘটনার পর চিনিকল ও সাঁওতালদের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

‌ব্রে‌কিংনিউজ/মিলন/পিআর