শিরোনাম:

চলে গেলেন কবি খালেদ মতিন

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ০১ অগাস্ট ২০১৭, ০৯:১৪
অ-অ+
চলে গেলেন কবি খালেদ মতিন

ঢাকা: না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি, কথাশিল্পী ও অনুবাদক খালেদ মতিন।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর মনোয়ারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কবির ভাতিজি মৌসুমী ব্রেকিংনিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চারদিন আগে নেত্রকোনায় তাঁর বাসার অদূরে হাঁটছিলেন কবি। এ সময় একটি অটোরিকশা ধাক্কা দিয়ে তাঁকে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত ঢাকায় এনে মনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মঙ্গলবার তাঁকে বেডে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকরা।

মৌসুমী জানান, বুধবার নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ হাই স্কুল মাঠে তাঁর নামাজের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর শহরস্থ মালনি কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন কবি।

উল্লেখ্য, কবি খালেদ মতিনের জন্ম ১৯৪৯ এর ১২ জানুয়ারি, নেত্রকোনা শহরের উপকণ্ঠে। নেত্রকোনার দত্ত হাই স্কুল থেকে ১৯৬৫তে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭তে নেত্রকোনা কলেজ থেকে এইচএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্নাস ও এমএ যথাক্রমে ১৯৭০ ও ১৯৭১ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে দ্বিতীয় শ্রেণি।

শৈশব থেকেই লেখালেখির শুরু। ৬০ এর দশকে বিশিষ্ট সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরীর সম্পাদনায় পাক্ষিক উত্তর আকাশ পত্রিকায় খালেদ-বিন-আস্কার ছদ্মনামে লেখালেখির হাতেখড়ি। নেত্রকোনায় তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে তখন কবিতা চর্চা করতেন কবি আল আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ ও রফিক আজাদ।

ষাটের দশকে দৈনিক সংবাদ ও আজাদসহ তখনকার প্রধান পত্রিকাগুলোতে কিঞ্চিৎ পরিচিতি গড়ে উঠলেও ৬০ দশকের শেষ পর্যায়ে অনার্সের ছাত্র থাকাকালে একবার বাড়ি ফিরে দেখলেন কবিতার খাতাগুলো সবই সের দরে বিক্রি হয়ে গেছে। এ ঘটনা স্বভাবতই তাকে সাময়িকভাবে ভগ্নোদ্যম করে। স্বাধীনতার পর নতুনভাবে আবার মনোনিবেশ করেন। কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর অনেক লেখক-কবির ভিড়ে নিজের পুনরুদ্ধার কোনমতেই সম্ভব হয়নি। মাঝে পাচঁ সাত বছর প্রায় বন্ধ্যাবস্থা অতিক্রান্ত হয়।

১৯৭৫’র পর কুলিয়ারচর কলেজে শিক্ষকতাকালে রাজবাড়ীর অর্থনীতির লেকচারার আসাদুজ্জামানের প্রেরণায় আবার লেখালেখিতে পূর্ণোদ্যমে প্রবেশ। ছদ্মনামের ঈষৎ পরিবর্তনে খালেদ-বিন-আস্কার নামে নব্বই দশকব্যাপী ‘দৈনিক খবর’ পত্রিকায় কবিতা ছাড়াও বিচিত্রবিষয়ক কলামিস্টরূপে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০০’র কাছাকাছি এসে কবি সমুদ্রগুপ্তের পরামর্শে শেষবারের মত খালেদ মতিনে রূপান্তরিত হন কবি।

এ পর্যন্ত তার লেখালেখিতে প্রায় ৭ শতাধিক সনেট, দেড় হাজার কবিতা, অর্ধশতাধিক ছোট গল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও শতাধিক প্রবন্ধ নিবন্ধ।

এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থ ৭টি গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে শবাধারে মমি (৫২ কবিতা), মহাভারতের পাখি ( ১০০ সনেট ৪৩ কবিতা), চাঁদ ও ফাহিয়েন (৩০০ সনেট ১১ কবিতা), অর্মত হরিণ (২০০ সনেট ২১ কবিতা) ও মহাজল (কাব্য। গল্প সংকলন সম্রাজ্ঞীর পাশে এক রাত (১৪ গল্প) ও রাজভোগ (২৭ গল্প)।

ব্যক্তিগত জীবনে খালেদ মতিন দুই মেয়ের জনক। শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে নেত্রকোনায় বাস করছিলেন।

তার চলে যাওয়ায় নেত্রকোনার সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/এমআর/এমএইচ