শিরোনাম:

জবি’র ইম্প্রুভমেন্টে ‘বি প্লাস’ এ সীমাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জবি করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৭, ১১:৩৭
অ-অ+
জবি’র ইম্প্রুভমেন্টে ‘বি প্লাস’ এ সীমাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন একাডেমিক নিয়ম অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থী ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা বা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে বি প্লাস অর্থাৎ ৩.২৫ এর বেশি পাবেন না। শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতায় চার (এ প্লাস) চার পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে লিখলেও তাকে ৩.২৫ এর বেশি দেওয়া হবে না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ধরনের তোলপার শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মেধার মুল্যায়ন না করে বরং মেধাকে ধ্বংস করে ফেলছে বলেও অভিযোগ অনেক শিক্ষার্থীর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস থেকে দেওয়া তথ্য মতে, গত ৭ আগস্ট (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ তম একাডেমিক কাউন্সেলের মিটিং এ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন এ নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো কারণে আবারো পরীক্ষা দেয় বা মান উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিয়ে বি প্লাস এর বেশি মার্ক তুলতে পারে তবুও তাকে সর্বোচ্চ বি প্লাস এর বেশি  না দেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে একজন শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে বা মানউন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিয়ে ৩.২৫ এর বেশি পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকল না। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাসহ অনেক শিক্ষকই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
 
বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একজন শিক্ষার্থীর  শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, আর্থিক  অথবা অন্য যেকোন সমস্যা থাকতেই পারে। শিক্ষার্থীরা মানুষ, যন্ত্র নয়। তাছাড়া যে প্রশ্নে নিয়মিত ব্যাচের সবাই পরীক্ষা দিবে সেই প্রশ্নে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিলে মানোন্নয়নে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকে জিপিএ ৩.২৫ এর বেশি না দেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। চলমান সেমিস্টারের সাথে তাল রেখে মানোন্নয়নের জন্য পড়াশুনা করে কোন শিক্ষার্থী ভালো করতে পারলে কেন তাকে সর্বোচ্চ জিপিএ দেয়া হবে না? মেধা ধ্বংসকারী এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ব্রেকংনিউজকে বলেন, ‘আসলে জগন্নাথ বিশ্বিবিদ্যালয় শিক্ষকদের যে অবস্থা তা দেখে মাঝে মাঝেই খুব হাসি পায়। মনে হয় তারা শিক্ষক হয়ে জন্ম নিয়েছেন। কখনো শিক্ষার্থী ছিলেন না। সত্যিকথা বলতে, খবর নিয়ে দেখেন জগন্নাথের শিক্ষকদের অনেকেই ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা আজ সেটিও ভুলে গেছেন।’ 

জবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমীন বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী যে রাতদিন কেবল পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করবে তা অবশ্যই নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠে। এই সকল শিক্ষার্থীই একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণতা দান করে। আর এ সকল সৃজনশীল কাজে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় ভালো মত পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেনা। তাছাড়া কেউ শারীরিক অসুস্থতা, কেউবা পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেক সময় সামর্থ্য অনুযায়ী ফল করতে পারেনা। তাই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ইম্প্রুভমেন্ট বা পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম করা হয়েছে যে, পুনরায় পরীক্ষা যত ভালই হোক না কেন, ৩.২৫ এর বেশি নম্বর দেওয়া হবেনা। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি এই সিদ্ধান্ত সৃজনশীলতার পথে অন্তরায় এবং স্বৈরাচারীমূলক। এ ধরনের সিন্ধান্ত বাতিল না করলে শিক্ষার্থীরা এই অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিল করাতে বাধ্য করবে।’
 
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক জাকারিয়া মিয়া ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমারা এ নিয়মটি করেছি যাতে কোনো অনিয়মিত শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করতে না পারে। এ নিয়মের আগে যে কেউ পরীক্ষা না দিয়ে পরবর্তী বছরের জন্য রেখে দেয়। এতে সে অনেক বেশি সময় নিয়ে ভালো ফলাফল করতে পারে কিন্তু যে শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিল সে খারাপ ফলাফল করছে এতে এক ধরনের বৈষম্য তেরি হচ্ছে। তাই আমরা এ নিয়মটি করেছি যাতে কোনো অনিয়মিত শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থীর চেয়ে ভালো ফলাফল করতে না পারে। 

এ নিয়মটি কবে থেকে চালু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৭-১৮ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা আমরা বলেছি। এটা এখন একাডেমিক কাউন্সিলে পাস হয়েছে তবে সিন্ডিকেটে পাস হয় নি।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য সচিব একেএম আক্তারুজ্জামান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘এরকম একটি নিয়ম আমরা গত একাডেমিক মিটিং এ পাস করেছি। সেখানে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স থেকে কার্যকর হবে তবে অনার্স এ কোন ব্যাচ থেকে বা কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয় নি। পরবর্তী মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তার কাছে রসায়ন বিভাগের সম্মান শ্রেণির সাম্প্রতিক একটি ফলাফলে নিয়মটি কার্য হয়েছে বলে অভিযোগের বিষয়ে কথা বললে তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘রসায়ন বিভাগের একটি ফলাফলে এটি কার্যকর করা হয়েছে তবে এটা সংশোধন যোগ্য। যেহেতু এটা এখনো কার্যকর হয় নি তাই এ রকম হয়ে থাকলে তা সংশোধন করা হবে।’ 

জবি রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘একাডেমিক এ নিয়মটি গত ৪১ তম একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হয়েছে তবে আমি এখনো কোনো বিভাগে নোটিশ পাঠাইনি। রসায়ন বিভাগের রেজাল্ট নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। এরপর পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলে এটা পাস হয়ে সিন্ডিকেটে পাস হবে এরপর এটি কার্যকর হবে।’

কবে থেকে এটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হতে পারে।’

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/আরআই/এসজেড