শিরোনাম:

’৭৫ থেকে ৯৬, গণতন্ত্র বন্দি ছিল ক্যান্টনমেন্টে: জবি উপাচার্য

জবি করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৭, ০৫:৩৯
অ-অ+
’৭৫ থেকে ৯৬, গণতন্ত্র বন্দি ছিল ক্যান্টনমেন্টে: জবি উপাচার্য
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আমাদের থেকে গণতন্ত্রের স্বাদকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে ক্যান্টমেন্টে বন্দি করা হয়। ’৭৫ এর পর খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান, হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া এরা সবাই ক্যান্টমেন্টে থেকেছেন।’

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল সাংবাদিকদের সংগঠন জবি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ‘গণমাধ্যম ও ১৫ ই আগস্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জবি উপাচার্য বলেন, ‘অনেকেই বলেন পচাত্তরের ১৫ আগস্টের আগে কেউ কেউ হয়ত জানত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হবে। বিষয়টা বঙ্গবন্ধুকে কেন জানানো হলো না। এটা জানতে একাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে হবে। ১৯৭২ সালে আমরা বিজয়ের প্রথম বর্ষ উদযাপন করি। বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষে জাসদ ১৬ ডিসেম্বরকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। আমরা যাকে বর্ষীয়ান নেতা মনে করি সেই মওলানা হামিদ খান ভাসানী জাসদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ‘কালো দিবস’ পালন করেন।

জাসদ সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘মেজর জলিল ছিলেন জাসদের সভাপতি। তিনি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কথা বলতেন। কিন্তু মেজর জলিল নিজেই এটা বুঝতেন না। পরবর্তীতে তিনি খেলাফত মজলিশে যোগদান করেন। পরে জানা যায় মেজর জলিল প্রতি রবিবার মেজর জিয়ার সাথে ক্যান্টমেন্টে বৈঠক করতেন।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ৮৪ জন বাংলাদেশি সামরিক সৈন্য অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ৭৭ জন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। বাকি ৭ জন ছিলেন মুক্তিযুদ্ধেও বিপক্ষে। পরবর্তিতে তারা বঙ্গবন্ধুর কাছে কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেন। বঙ্গবন্ধুই তাদেরকে পুলিশে চাকরি দেন।’  

উপাচার্য আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে শুধুমাত্র পাকিস্তান কিংবা রাজাকাররাই আত্মসমর্পণ করেনি, এর সাথে সাথে আত্মসমর্পণ করেছিল যারা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে তারাও। বিশ্বের ৯টি দেশ ব্যতীত সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। এরা সবাই পরাজিত হয়েছিল আমাদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এখন বাংলাদেশে আবারও পাকিস্তানের চিন্তা-চেতনা রফতানির চেষ্টা চলছে।’   

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.প্রিয়ব্রত পাল বলেন, ‘আমি ১৯৭৫ সালের ২৬ জুলাই বঙ্গন্ধুর সাথে দেখা করে ২৭ তারিখ মস্কো রওনা দেই। এর কয়েকদিন পর জানতে পারি বঙ্গবন্ধুর নিহতের খবর। এ খবর শোনার পর বিশ্বাসই হচ্ছিল না। যদি আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করি তবে আমাদের মাঝে কোনও বিভেদ নয়, এখন দরকার ঐক্য। এখন আমরা বলতে চাই যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে তারা সফল হতে পারেনি।’ 

এসময় তিনি সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সততা ও ন্যায়ের সাথে তাদের দ্বায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানান।

প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও নিরপেক্ষতার স্লোগানে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সুব্রত মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম শাহীনের সঞ্চালনায় ‘গণমাধ্যম ও ১৫ আাগষ্ট’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জবি নীল দলের সভাপতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড.অরুণ কুমার গোস্বামী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জবি প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ, নীল দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দল্লাহ আল মাসুদ, জবি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইমরান আহমেদ অপু, জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রুবেল, জহির উদ্দীন আগুন, তানভীর রহমান খান প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডীন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/আরআই/এমআর