শিরোনাম:

ভর্তি জালিয়াতি: জাবিতে আরো ৬ জন আটক

জাবি প্রতিনিধি,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:৪৫
অ-অ+
ভর্তি জালিয়াতি: জাবিতে আরো ৬ জন আটক

জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভর্তিতে জালিয়াতির অভিযোগে আরো ৫ ভর্তিচ্ছুসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৩ নভেম্বর) মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসলে তাদেরকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আটককৃতদের আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন নিশাদ আহমেদ, নাঈমুর রহমান সরকার, আশরাফুজ্জামান নয়ন, মাহমুদুল রশিদ সৌরভ ও নাঈমুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে ভাড়া করা ব্যক্তিদের দিয়ে নিজেদের নামে লিখিত ভর্তি পরীক্ষা (প্রক্সি) দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আটক ভর্তি”ছুরা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া রিজওয়ান নামের এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, ‘নিশাদ ও নাঈমুর আমাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। জালিয়াতির বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না।’

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর থানার মুন্সীপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে নিশাদ আহমেদ। সে সৈয়দপুর ক্যান্টঃ পাবলিক কলেজের ছাত্র ছিল। আইন ও বিচার বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৭ তম অবস্থানে ছিল। তার রোল নং-৬৩২১৩৬। এ সময় সঙ্গে আসা তার বড় ভাই ছাত্রদল কর্মী নাঈমুর রহমান সরকারকেও আটক করা হয়। প্রক্সি দেয়ার জন্য সে  ৩ লক্ষ টাকা চুক্তি করেছিল।

যশোরের ঝিকরগাছা থানার বাকুড়ার আবুল কাশেমের ছেলে আশরাফুজ্জামান নয়ন সি (কলা ও মানবিক) ইউনিটে ১৭তম স্থান লাভ করে। সে যশোর এম এম কলেজের অর্থনীতি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পায়। তার রোল নং-৩৪২৪৭৬।  

গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার হারুনুর রশিদের ছেলে মাহমুদুল রশিদ সৌরভ ‘ই’ ইউনিটে (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) ১৫২তম অবস্থানে ছিল। গাজীপুর ক্যান্টঃ পাবলিক কলেজের এই ছাত্র ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রক্সির ব্যবস্থা করে। তার রোল নং-৫২৩২৫৩।
 
নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর থানার হাতিখানা গ্রামের আশেকুর রহমানের ছেলে নাঈমুর রহমান ‘ই’ ইউনিটে (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) ১২৭তম অবস্থানে ছিল। সৈয়দপুর ক্যান্টঃ পাবলিক কলেজের এই ছাত্র সুবির নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রক্সির ব্যবস্থা করে। ইতোমধ্যে সে ১ লক্ষ টাকা পরিশোধও করেছে। তার রোল নং-৫২৬০৯৮। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘তারা ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. লোকমান হোসেন  বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। থানায় নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে রবিবার মাহবুব হোসেন, ইমাম হোসেন, অমিত হাসান ও আশিকুল হাসান রবিন নামের আরো ৪ শিক্ষার্থীকে একই অভিযোগে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।  

ব্রেকিংনিউজ/এমএ/এনএআর