শিরোনাম:

জবি’র পাঠ্যে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বাধ্যতামূলক

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:০৬
অ-অ+
জবি’র পাঠ্যে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বাধ্যতামূলক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সকল বিভাগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
 
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এতে জানানো হয় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে সকল বিভাগে সম্মান প্রথম বর্ষে সবনিম্ম ৩ ক্রেডিটের ১০০ নম্বরের কোর্সে বিষয়টি পাঠদান করা হবে।
 
জবি জনসংযোগ, প্রচার ও প্রকাশনা দপ্তর আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জবি উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আমরাই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু করেছি। যদিও এই কোর্সটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আগেই চালু হয়েছিল। আমরা এটি ঘোষণা এজন্য দিলাম যাতে দেশের আর সকল বিশ্ববিদ্যালয় অনুপ্রাণিত হয়। এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির জনকের হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে উল্টে দেয়া হয়েছিল। যা ১৯৯৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এর পরে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এ কিছুটা সংশোধন হলেও পরে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তা আবার বিকৃত করা হয়।
 
ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের যেকোনো প্রগতিশীল আন্দোলনে বেশির ভাগ মানুষই বিরোধিতা করেছিল। ১৯৬৬ সালে যখন বাংলাদেশে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করা হয় তখন মাত্র ১০ জন বুদ্ধিজীবী রবীন্দ্রসংগীতের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরের দিনেই ৪০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিষিদ্ধের পক্ষে মতামত দেন। এজন্য এখনো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি আছে এবং দিনদিন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধির ইতিহাস’ এর  সিলেবাস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, আমরা আগে যারা বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি তাদের কেউই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ে আসিনি। এতে এক ধরনের ইতিহাস গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে আমাদের ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে। এছাড়া আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এই ইতিহাস পড়াই এতেই কোনো লাভ হবে না, যদি আমরা এটাকে পরিবার থেকে চর্চা করতে না পারি।
 
মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, আমাদের বিভাগে এই কোর্সটি চালু করেছিলাম আরো চার আগে। এছাড়াও ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেও চালু করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অরুণ কুমার গোস্বামী।
 
জবি ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা জন্মের পর যেমন বাবা মাকে চিনি তেমনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও জানতে হবে। আমদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে, যে শিক্ষকেরা এটি পড়াবেন তারা যেন ইতিহাস বিকৃতি করতে না পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
 
জবি জনসংযোগ, প্রচার ও প্রকাশনা পরিচালক অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জবি রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. প্রিয়ব্রত পাল, লাইফ এন্ড আর্থসায়েন্স’র অধ্যাপক জাকারিয়া মিয়া প্রমুখ।
 
ব্রেকিংনিউজ/পিএ/জিয়া