শিরোনাম:

নারী যাত্রীর শরীরে অর্ধকোটি টাকার সৌদি মুদ্রা!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:৫৪
অ-অ+
নারী যাত্রীর শরীরে অর্ধকোটি টাকার সৌদি মুদ্রা!
ফাইল ফটো

ঢাকা: রাজধানীর হজরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এক নারী যাত্রীর শরীরে লুকানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জব্দসহ ওই মহিলা যাত্রীকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মঈনুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা শাহজালালের ডোমেস্টিক টার্মিনালে চট্টগ্রাম যাওয়ার প্রাক্কালে এক নারী যাত্রীর শরীরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা আটক করেছে। আটক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার সৌদি রিয়েল।  

খাদিজা বেগম (৭০) নামে আটক ওই যাত্রীর গ্রামের বাড়ি গাজীপুর সদরের মন্নুনগর আরিচপুরে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানে আরএক্স ০৭৮৬ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। শুল্ক গোয়েন্দারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত যাত্রীকে নজরদারিতে রাখে। সকাল সাড়ে ৮ টায় ডোমেস্টিক চেকইন কাউন্টারে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। কিন্তু তিনি বৈদেশিক মুদ্রা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এরপর যাত্রীকে শাহজালালের কাস্টমস হলে নিয়ে এসে তল্লাশি করে সৌদি রিয়াল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এসব মুদ্রা তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এসব মুদ্রার স্বপক্ষে কোনও দলিলাদি দেখাতে পারেননি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, জনৈক সোহেল নামীয় এক ব্যক্তি তাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুদ্রাগুলো চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বলেন। এসব মুদ্রা চোরাচালানে তিনি সহায়তা করছিলেন। চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে এসব মুদ্রা বিদেশে পাচার হতো।  ঘোষণা ছাড়া এবং লুকানোর কারণে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও শুল্ক আইন, মানি লন্ডারিং আইন ভঙ্গ হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, শুল্ক গোয়েন্দার নজরদারীর কারণে ঢাকা থেকে পাচার করতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব মুদ্রা চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত কিছুদিনে শুল্ক গোয়েন্দা ঢাকায় বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে পাচারের প্রচেষ্টা কালে বিভিন্ন মুল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা আটক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে আটক যাত্রী একজন বাহক।

এই ব্যাপারে আটককৃত খাদিজা বেগমকে দি কাস্টমস এ্যাক্ট ১৯৬৯, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন,২০১২ (সংশোধনী ২০১৫), বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর আলোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআরএস/এমআর