শিরোনাম:

পাওনা দাবিতে জুটমিলে শ্রমিক অসন্তোষ, তিনটি বন্ধ

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : শনিবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০৪:৪৬
অ-অ+
পাওনা দাবিতে জুটমিলে শ্রমিক অসন্তোষ, তিনটি বন্ধ
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

খুলনা: শিল্প নগরী খুলনার ঐতিহ্য পাট কলগুলোতে হঠাৎ করে অশান্ত অবস্থা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ব ৯টি জুটমিলের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটি জুটমিল শ্রমিকরা তাদের পাওনার দাবিতে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। শ্রমিকদের মোট পাওনা রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। 

অথচ ৯টি মিলের উৎপাদিত পণ্য রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। উৎপাদিত পাট পণ্য রফতানি না হওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না। অপরদিকে বকেয়া মজুরি না পেয়ে শ্রমিক পরিবারগুলোও পড়েছে বিপাকে। গত তিনদিনে রাষ্ট্রায়াত্ব ৯টি পাটকলের মধ্যে তিনটি পাটকল শ্রমিকরা তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
 
বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশন) খুলনার আঞ্চলিক লিয়াঁজো অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৬টায় ছয় সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

স্টার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি বেল্লাল মল্লিক জানান, শ্রমিকরা মিলে কাজ করছে অথচ মজুরি পাচ্ছে না। মজুরি না পেয়ে তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এজন্য শনিবার সকাল ৬টা থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিলটিতে স্থায়ী-অস্থায়ী সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক কর্মচারী-কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের মধ্যে শ্রমিকদের ছয় সপ্তাহ বকেয়া মজুরি ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মোট বকেয়ার পরিমাণ ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।  

এর আগে বৃহস্পতিবার ৮ সপ্তাহের মজুরির দাবিতে  মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা। তারা শনিবারও কাজে যোগ দেননি। মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। 

ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, খুলনার এ জুটমিলে প্রায় সাড় ৪ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছে। তারা নিয়মিত সপ্তাহের মজুরি পাচ্ছে না। যে কারণে অর্থ কষ্টে সংসার চালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে একেকজন সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা সাপ্তাহিক মজুরি পাওনা রয়েছে।
 
স্টার জুট মিলের প্রকল্প প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ায় মিলটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
 
ক্রিসেন্ট জুটমিলের প্রকল্প প্রধান এ কে হাজারি বলেন, ক্রিসেন্ট জুটমিলটিতে বর্তমানে ৬০ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য অবিক্রিত রয়েছে। অথচ শ্রমিকরে পাওনা রয়েছে ১০ কোটি টাকার মত। শিপমেন্ট না হওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তারপরও তাদেরকে গত সপ্তাহে ১ সপ্তাহের মজুরি দিতে চাওয়া হলেও তারা নেননি।
 
এর আগে বুধবার (৪ অক্টোবর) আট সপ্তাহের মজুরির দাবিতে প্লাটিনাম জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া তিনটি জুটমিলের শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার। খুলনায় অপর জুটমিলগুলো হচ্ছে, জেজেআই (যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি) কার্পেটিং, ইস্টার্ন, খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল ও আলীম জুট মিল।

এ বিষয়ে বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশন) খুলনার আঞ্চলিক লিয়াঁজো অফিসার শাহাদাত হোসেন বলেন, খুলনায় রাষ্ট্রায়াত্ব জুটমিল রয়েছে ৯টি। ৯টি জুট মিলে বিক্রির জন্য পাটজাত পণ্যের মজুদ রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। অথচ শ্রমিকদের সবমিলিয়ে পাওনা রয়েছে ৬০ কোটি টাকার মত। পাট পণ্য রফতানি ও বিক্রি শুরু হলেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, এই জুটমিলগুলোতে স্থায়ী অস্থায়ী মোট ২৫ হাজারের মত শ্রমিক রয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ