শিরোনাম:

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ‘বড়’ হচ্ছে হুন্ডি সিন্ডিকেট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ০৫:২০
অ-অ+
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ‘বড়’ হচ্ছে হুন্ডি সিন্ডিকেট
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

ঢাকা: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি সিন্ডিকেট বড় হচ্ছে। হুন্ডি সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ, ইউ ক্যাশসহ অন্যান্য এমএফএস সার্ভিসের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ফলে দ্রুত বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাসীদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশে হুন্ডির এ সিন্ডিকেট কাজ করছে। যার ফলে ব্যাংকিং খাতে রেমিটেন্স প্রবাহে ধস নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ”ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি: বাংলাদেশ কনটেস্কট” শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

এস কে সুর বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রেমিটেন্স প্রবাহে শ্লথ প্রবৃদ্ধি। তবে গত মাসে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এটিকে ধরে রাখার জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, এটিকে অস্বীকার কারার উপায় নেই যে, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে রেমিটেন্সের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে দেশে আসছে। যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা বিভিন্ন উপায় খুঁজছি। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আর্থিক অন্তভূক্তির যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে তা বাস্তবায়নে অবৈধ চ্যানেলে লেনদেন বন্ধ করতে হবে।

ডেপুটি গভর্নর বলেন, হুন্ডি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন উপায়ে এটিকে কমিয়ে আনতে হবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিটেন্স আসার কারণে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল কাজে লাগাতে হবে। গত ৫ বছর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিসর অনেক বেড়েছে। কিন্তু রেমিটেন্স আনার ক্ষেত্রে এটিকে কাজে লাগানো হয়নি। এ কারণে দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংকে রেমিটেন্স আনার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে না পারলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ আরও কমে যেতে পারে। অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে যেসব সুবিধা প্রবাসীদের আত্মীয়-স্বজনদের দেয়া হয়, সেসব সুবিধা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেয়া উচিত।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠালে খরচ বেশি। এর প্রভাব পড়ছে রেমিটেন্স প্রবাহে। তাই খরচ কমিয়ে আনতে হবে। এছাড়া ব্যাংকারদেরকে গ্রাহকদের সঙ্গে আরও ভালো আচারণ করতে হবে। কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে।

এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহমুদ হোসেন বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। তা না হলে হুন্ডি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমএফএসকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে তদারকি করতে হবে।

কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ আহসান হাবিবের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

গবেষণা প্রতিনিধি দলের অন্যন্য সদস্যরা হলেন- বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী রেমিটেন্স প্রবাহ কমলেও আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি কমেছে। কেননা, বিশ্বে আমাদের মার্কেট শেয়ার সবচেয়ে বেশি কমেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স কমার কারণ হিসেবে গবেষণায় ব্যাংকের শাখার দূরত্বকে দায়ী করা হয়েছে।
এছাড়া অর্থ পেতে সময়ক্ষেপণ, ব্যাংকারদের সদাচারণের অভাব, নানা ধরনের জবাবদিহিতা, সাপ্তাহিক ছুটি, অবৈধ অভিবাসীসহ বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করা হয়েছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।

ব্রেকিংনিউজ/ এমআই/ এমএইচ