শিরোনাম:

আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

প্রকাশিত : শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৪৮
অ-অ+
আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

ঢাকা: আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত হচ্ছে। সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে রিহ্যাব এনবিআর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।’

শনিবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে রিহ্যাব ও এনবিআরের যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজিবুর রহমান এ কথা বলেন।

নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা বৃত্তের বাইরে আসছি। জনগণের কাছে আমাদের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি।’

২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৯ এর জুলাইতে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে যেন ব্যবসায়ীদের জটিলতা না থাকে এ জন্য ব্যাবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন স্টক হোল্ডারদের সঙ্গে এনবিআর কাজ করছে।’ 
 
নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুগোপযোগী কর আইন করছি। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করছি। নতুন আয়কর আইন বাংলায় করা হচ্ছে।’

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে গ্রামে আবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন। এক্ষেত্রে রিহ্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।’
 
সভায় সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল। তিনি বলেন, ‘আবাসন খাতের জন্য সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা চালু প্রয়োজন। আর এর জন্য সেকেন্ডারি বাজারে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো প্রয়োজন।’ 

 এসময় তিনি সেকেন্ডারি বাজারে সর্বমোট ৩ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন খরচ করার প্রস্তাব করেন।

আলমগীর শামসুল বলেন, ‘অ্যাপার্টমেন্ট ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ব্যয় ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার দাবি  জানাচ্ছি।’

 
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিবছর ১৫ থেকে ১৭ হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না।’

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, ‘২০১০ সালের পর থেকে দেশের আবাসন শিল্প নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার  মুখোমুখি। নানা কর আরোপ ও সরকারের নীতি সহায়তার অভাবে আবাসন খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। কর্মসংস্থানের বড় খাত হওয়া সত্ত্বেও গত চার-পাঁচ বছর ধরে কোম্পানিগুলো কেবল লোকবল ছাঁটাই করছে ।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আর্থিক সরবরাহের অভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যথাযথ গৃহঋণ না থাকায় বিক্রিত ফ্ল্যাটের রিপেমেন্ট হচ্ছে না। সময়মতো ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ঋণ খেলাপি হচ্ছে। উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের ফলে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে।’

শাওন  বলেন, ‘সম্ভাবনাময় এ খাতকে এগিয়ে নিতে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় ও গেইন ট্যাক্স কমানো, সেকেন্ডারি বাজার তৈরি এবং স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে।’

নুরন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ। এরমধ্যে গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্পডিউটি ৩ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ এবং ভ্যাট দেড় থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ । তাই  রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ করা জরুরি ‘

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন এনবিআরের সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, পারভেজ ইকবাল, রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া প্রমুখ। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআই/এনএআর