শিরোনাম:

রপ্তানিতে ‘বহুমুখীকরণ’ উদ্যোগ নামকাওয়াস্তে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৩৮
অ-অ+
রপ্তানিতে ‘বহুমুখীকরণ’ উদ্যোগ নামকাওয়াস্তে

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য এখন তৈরি পোশাককেন্দ্রিক। অথচ রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা না বাড়লে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য থাকে না।এ জাতীয় পরিস্থিতি কাটানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালানোর কথা শোনা গেলেও অর্থবহ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
 
দ্বিতীয়ত, বিশেষ একটি পণ্যের উপর কোনো দেশের রপ্তানি বাণিজ্য নির্ভরশীল হয়ে গেলে তা পরিণামে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যে ভয়াবহ বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে কমপক্ষে এক ডজন ‘বিকল্প পণ্য’ থাকা জরুরি।
 
বাংলাদেশে বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদন হলেও তা বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে এখনও সনদ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পাটের মতো সম্ভাবনাময় পণ্যকের রপ্তানি বাণিজ্যের মূলস্রোতে রাখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রপ্তানি বাণিজ্যে পোশাক-নির্ভরতা কাটাতে না পারলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। যেকোনো মূল্যে রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র আনতেই হবে।
 
রপ্তানি তালিকায় দেশের পণ্যের সংখ্যা এখন ৭২০। তালিকা বড় হলেও ২৫ বছর ধরে রপ্তানিখাত পোশাকনির্ভর। গত অর্থবছরে মোট আয়ের ৮৮ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। এ নির্ভরতা বাড়ছে দিন দিন। রপ্তানি প্রবণতা বলছে, আগামীতে এ হার এবং নির্ভরতা আরও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ নিয়ে কথা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
 
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) গত তিন বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোশাকের বাইরের প্রধান প্রধান প্রায় সব খাতেরই রপ্তানি আয় কমেছে। এ সময়ে চিংড়ির রপ্তানি আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের পণ্য। চামড়ার আয় কমেছে ৩০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭১ লাখ ডলারে।
 
তবে চামড়া ও চামড়া পণ্য মিলে আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে পাট রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৫৬ কোটি ডলার। চায়ের রপ্তানি কমেছে ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০ লাখ ৪৫ হাজার থেকে আয় কমে হয়েছে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ডলার। তবে ওষুধের রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত বছর একই সময়ের চার কোটি ৭০ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে পাঁচ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
 
রপ্তানিতে পোশাক-নির্ভরতা সম্পর্কে ইপিবির একজন পরিচালক বলেন, পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছে ইপিবি। এক জেলা এক পণ্য কর্মসূচিতেও গতি আনার চেষ্টা চলছে।
 
ইপিবির রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য পণ্যের রপ্তানি কমছে। রপ্তানি খাতের প্রায় সব পণ্যের ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি একই রকম। তবে ওষুধের রফতানি আয় কিছুটা বেড়েছে। তিন অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ৫ শতাংশ ও ১৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
 
জোট হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। মোট আয়ের ৬২ শতাংশ আসে ২৮ জাতির এ জোট থেকে। ঢাকায় ইইউ দূতাবাসের সদ্য বিদায়ী বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. জিল্লুল হাই রাজি  বলেন, দুই দশক ধরে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো ফল নেই।
 
তার মতে, সরকারি পর্যায়ে নীতি-কাঠামোতে দুর্বলতা এবং বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট চাপ না থাকায় সম্ভাবনাময় অনেক শিল্প দীর্ঘদিনেও মূলধারার রপ্তানিতে সংযুক্ত হতে পারেনি; বরং পাট-চায়ের মতো ঐতিহ্যবাহী রপ্তানি পণ্যেরও বাজার খোয়া গেছে।
 
বিদায়ী বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে ওষুধের কথা শোনা গেছে; কিন্তু বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সনদ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ওষুধের কাঁচামালের উৎপাদনে দুটি অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) পার্ক করার কথা। এগুলো এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
 
তার মতে, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার বাড়াতে অবকাঠামো সমস্যা প্রকট। অন্যদিকে চিংড়ির রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন এবং রফতানি প্রক্রিয়ায় সক্ষমতার অভাব আছে। জাহাজ রফতানি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে রপ্তানিতে সহজে বৈচিত্র্য আসার সম্ভাবনা নেই।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিয়া