শিরোনাম:

গেল বছরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ পড়েছে: সিপিডি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:১৫
অ-অ+
গেল বছরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ পড়েছে: সিপিডি
ছবি: জুয়েল রানা; ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

সদ বিদায়ী ২০১৭ সালের শুরুতে যতটা প্রতিশ্রুতিশীল ছিল, শেষটা ততটা ইতিবাচক ছিল না। সব মিলে গেল বছরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ পড়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনাতয়ে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি'র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০১৭ সালের শুরুটা যতটা প্রতিশ্রুতিশীলভাবে শুরু হয়েছিল, সেই ধরনের উদ্যোম বা ইতিবাচক পরিস্থিতি শেষ করতে পারিনি। এর প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশ বিগত দশক ধরে একটি শোভন প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু এই শোভন প্রবৃদ্ধির হারে নিচে অন্ধকার রয়েছে। আর সেটি হলো দেশের ভেতরে প্রবৃদ্ধির তুলনায় সেই হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। দারিদ্র বিমোচনের হার শ্লোত হয়ে আসছে। এছাড়া শুধু আয়, ভোগে নয় সবচেয়ে বেশি বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে সম্পদে।

তিনি বলেন, সম্পদে বৈষম্য সৃষ্টি প্রধান কারণ হচ্ছে- ব্যাংকের ঋণের টাকা ফেরত না দেয়া, বড় বড় প্রকল্পগুলো থেকে ঠিকাদারের মাধ্যমে অর্থ ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া। ফলে বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, আমরা যখন প্রবৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে চিন্তিত থাকতাম, সে জায়গায় আমাদের প্রবৃদ্ধি গুণগত মান নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। আমাদের গবেষণায় বলে- একটি দেশে যদি ক্রমান্বয়ে আয় বৈষম্য বৃদ্ধি পায় তাহলে আগে হোক আর পরে হোক প্রবৃদ্ধি হারের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিদায়ী বছরে ব্যক্তিখাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসময়ে ব্যাংকের টাকা অপরিশোধিত হয়েছে, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাব, বৈদেশিক ঋণের দুর্বলতা, রেমিট্যান্সের প্রভাব কমে যাওয়া, খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, টাকার উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ২০১৭ সালে শুধু প্রবৃদ্ধি গণগত মান নিয়ে প্রশ্ন নয়। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেশ কিছুটা দুর্বল বা চাপে পড়েছে। আর এটা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার দূর্বলতা কারণে।

চলতি বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন হবে- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৮ সাল হচ্ছে নির্বাচনের বছর। এ সময় জনতুষ্টিমূলক প্রকল্প নেয়া হবে। প্রকল্পগুলো সর্বোমোট টাকা না নিয়ে নামমাত্র টাকা দিয়ে প্রকল্প সংখ্যা বাড়ানো। এছাড়া থোক বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলে আমরা আশংকা করি।

এ থেকে পরিত্রাণ পেতে একটি রক্ষণশীল অর্থনীতির দিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

ব্রেকিংনিউজ/ এমআই/ এসএ