শিরোনাম:

২০১৭ সাল দেশে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর: সিপিডি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৫:১৫
অ-অ+
২০১৭ সাল দেশে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর: সিপিডি

ঢাকা: ২০১৭ সাল দেশে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশের অর্থনীতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে যে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে ২০১৮ সালে এটি নিরসন হওয়ার   কোনও লক্ষণ দেখতে পারছি না।’
ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘২০১৭ সাল ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সার্বিকভাবে ২০১৭ সালে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চাপের মধ্যে ছিল।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখছি অপরিশোধিত ঋণ বেড়ে গেছে। করের টাকা দিয়ে পুনঃ তফশিলি করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি খাতের ব্যাংকে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মালিকানা বদল হয়েছে। নতুন যে ব্যক্তিখাতের ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে সেগুলো কার্যকর হতে পারে নি। আমরা দেখছি ব্যক্তিখাতের ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনাও ঘটছে। ব্যাংকি খাত দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায় সরকার এখন সংস্কারের আগ্রহী নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পারছি উল্টো একই পরিবারের ২ জনের পরিবর্তে ৪ জনকে ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগের সুযোগ দিয়েছে সরকার।এতে ব্যাংক হয়ে উঠছে পরিবারকেন্দ্রিক।’  

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল মন্তব্য করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন,  অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বমূলক ভূমিকার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। এ ঘাটতি তিন জায়গায়—সংস্কারের উদ্যমের অভাব, সমন্বয় করতে না পারা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় দুর্বলতা। আমরা দেখেছি অর্থনীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত অর্থমন্ত্রণালয় নেওয়ার ক্ষমতা দেখাতে পারেনি। অনেকক্ষেত্রে উপর থেকে যে সিদ্ধান্ত এসেছে সেটা যুক্তিযুক্ত না হলেও কার্যকর করেছে।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড.ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবস্থায় আমরা দেখছি প্রভাবশালীদের সংযোগে ব্যাংক ব্যবস্থায় অনিয়ম হচ্ছে। বলা যায় লুটপাট চলছে।’

তিনি বলেন, ‘শেয়ার বাজার ধসের যে প্রভাব তা থেকে আমরা এখনো সেভাবে ফেরত আসতে পারছি না। এখন আর্থিক খাতের মধ্যে এই ব্যংকিং খাত সেখানেও চলছে বিশৃঙ্খলা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেমন- ইন্দোনেশিয়ায় আর্থিক বিশৃঙ্খলার জন্য এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা সেই ধরনের সংকটে যাচ্ছি কি না সেটা দেখার বিষয়।’

২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর বিধায় আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতা নিরসনে সরকারের তেমন কোন পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর নির্বাচনকে ঘিরে অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা রক্ষণশীল নীতিতে চলার পরামর্শও দিয়েছে সিপিডি।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে রপ্তানি আয় সেই হারে বাড়েনি। ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি হচ্ছে। টাকার মান কমেছে। সার্বিকভাবে সুদ হার কমলেও দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই সুবিধা পাননি। ঋণের  টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ জনগণের করের টাকা থেকে মূলধন যোগান দিচ্ছে। এখন বেসরকারি ব্যাংক থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/এমআই/এনএআর