শিরোনাম:

আনারসে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

লিটন সরকার, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৪ অগাস্ট ২০১৭, ০৮:৩১
অ-অ+
আনারসে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
ছবি: মারুফ রহমান

মধুপুর, (টাঙ্গাইল) : চলছে আনারসের ভরা মৌসুম। মধুপুরের বাতাসে বাতাসে এখন পাকা আনারসের মৌ মৌ ঘ্রাণ। পুরো মধুপুর জুড়েই আনারসের প্রচুর চাষ হয়। মধুপুরের অরুণখোলা, ষোলাকুঁড়ি, আউশনাড়া ইউনিয়নে আনারসের সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। এ এলাকায় চাষ হওয়া আনারসের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় আনারস হল জলডুগি।
 
গত বছর দাম ভাল পাওয়ার কারণে এবার আনারসের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আনারসের দাম ভাল পেয়ে চাষিরা বেজায় খুশি। মধুপুর গড় এলাকার লাল মাটি আনারস চাষের জন্য ব্যাপক উপযোগী। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা ঝুঁকছেন আনারস চাষে। মধুপুর আনারসের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে কৃষকরা তাদের বাগানে পেঁপে, আদা, কচু, হলুদসহ নানা ধরনের কৃষি ফসল চাষ করে থাকেন।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনারসের রাজধানীখ্যাত মধুপুর গড় এলাকায় আনারসের আবাদের ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়। মধুপুর গড়াঞ্চলের আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের আদিবাসী ভেরেনা সাংমা ১৯৪০ সালের দিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বেড়াতে যান। সেখানে জায়েন্ট কিউ জাতের রসালো আনারসের আবাদ হয়। সুস্বাদু এ আনারস খেয়ে তিনি মুগ্ধ হন। পরে সেখানে ছেলেকে পাঠান আনারসের চারা আনার জন্য। গরুর গাড়িতে করে প্রচুর চারা এনে লাগান বাড়ির আশপাশে। দুই বছর পর ফল আসে। সুস্বাদু ও অত্যন্ত রসালো আনারস দেখে এলাকার অন্যরাও শুরু করেন আনারসের আবাদ। সে সময় এক আনায় একটি আনারস পাওয়া যেত এবং সে জন্যই ‘উত্তর থাইকা আইল ফল, রসে টস টস/আনা আনা বিকোয়, নাম আনারস’ ছড়াটি এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফিরত। এভাবেই মধুপুর গড় এলাকা হয়ে ওঠে আনারস আবাদের প্রধান জনপদ।
 
চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় মোট ৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মধুপুর উপজেলায়ই চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর। প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় এ অঞ্চলের আনারস।
 
তবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আনারসের সেই পুরনো স্বাদ। যে আনারস পরিপূর্ণ হতে সময় লাগে ১৮ মাস। চাষিরা সেই আনারসে মাত্রাতিরিক্ত হরমোন ব্যবহার করে ৫-৬ মাসে পরিপক্ব করে বাজারজাত করছে। এতে আনারসের আগের সেই স্বাদ ও গন্ধ নেই। এতে বড় ধরনের হুমকির মধ্যে পড়েছে আনারসের রাজধানীর সুনাম। হরমোনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জেনেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়ে বেশি লাভের আশায় এটি ব্যবহার করছেন চাষিরা।

ভেরেনা সাংমার উত্তরসূরি ভেরেনা আর চিসিম (৮৪) জানান, মধুপুর গড় এলাকায় আনারস চাষের জনক আমাদের পরিবার। তিনি জানান, আনারসের আগের স্বাদ মেডিসিন দেয়ার কারণে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে।
 
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এবার বৃষ্টি কম থাকার কারণে তারা আনারসের দাম ভাল পাচ্ছেন। এ জন্য তাদের এবার লোকসান গুনতে হবে না। লাভের মুখ দেখতে পারবে বলে তারা জানান।
 
মধুপুরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এ বছর উপজেলার সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। আনারস আবাদ কিছু কমছে। কারণ মানুষ কলা বা অন্যান্য ফলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।’
 
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ

সম্পর্কিত বিষয়ঃ   ভারত