শিরোনাম:

হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল

খন্দকার শাহিন, জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার, ০৫ অগাস্ট ২০১৭, ০৪:০৩
অ-অ+
হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল

নরসিংদী: পানির অভাবে দেশের জাতীয় ফুল শাপলার প্রাকৃতিক উৎপাদন বিলুপ্তির পথে। ফুল মানুষের মনকে মুগ্ধ করত। প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এ ফুল ছিল সাহিত্যের ছন্দমিলানোর উপকরণ। ফুলের সৌন্দর্য্যে পুকুর দীঘি দেখতে আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। শাপলা ফুল দু'প্রকারের। সাদা শাপলা ও রক্ত শাপলা।

শাপলার জন্য বিখ্যাত নরসিংদীতে এখন এই ফুলটি তেমন মিলে না। জেলার অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, পুকুরসহ জলাশয় হ্রাস পাওয়া এবং ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানির শূন্যতা। এতে ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে শাপলা ফুল।

উইকিপিডিয়া থেকে জানা গেছে, দেশের জাতীয় ফুলের বাংলা নাম শাপলা, ইংরেজি নাম লিলি, মনিপুরী ভাষায় থরো, আংগৌরা, তামিল ভাষায় ভেলাম্বাল, সংস্কৃত ভাষায় কুমুডা, আসাম ভাষায় শাপলা ফুলকে নাল বলা হয়। শুধু বাংলাদেশ নয় শ্রীলংকায়ও জাতীয় ফুল এই শাপলা। শ্রীলংকায় শাপলাকে বলে নীল-মাহানেল। গ্রীক দার্শনিক প্লেটো ও এরিস্টটল এর এক শিষ্য থিউফ্রাস্টাস বলেছেন, এটা একটি জলজ উদ্ভিদ যা প্রায় ৩’শ খৃষ্টপূর্ব পুরানো।

নরসিংদীতে সাধারণত ৩ প্রকার শাপলা ফুল দেখা যায়। সাদা, লাল, বেগুণী রঙের। এর মধ্যে সাদা শাপলা হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। নরসিংদীর সর্বত্র অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, ঝিলে দেখা যেত এই শাপলা ফুল। নরসিংদীতে কল-কারখানার বৃদ্ধিতে নদী-নালা, খাল-বিল, ভূমি দস্যুদের দখলে চলে যাওয়ায় ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে জাতীয় ফুল। কৃষি জমিতে অধিক পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার কারণে জাতীয় ফুল শাপলা বিলীন হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

এ জেলার বেলাব, মনোহরদী, রায়পুরা, শিবপুর, পলাশ, সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু লাল শাপলা দেখা গেলেও সাদা, হলুদ, নীল, বেগুণী শাপলা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এখনও দূর-দূরান্ত হতে আসা বিভিন্ন পর্যটকরা রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের হালদার ব্রিজ, শিবপুর উপজেলার দুলালপুর চিনাদী বিল, মনোহরদী উপজেলার মাধুশাল বিল, বেলাব উপজেলার বাবলা বিল, আড়িয়াল খাঁ নদীতে লাল শাপলা দেখতে ভিড় জমায়।

বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিল জলাশয় ও নিচু জায়গায় পানি জমা থাকলে সেখানেই প্রাকৃতিক ভাবেই জন্ম নেয় আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। কিছু দিন আগেও বেলাব উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে শাপলা ফুল দেখা যেত। তখন পুকুর খাল বিল ও জলাশয় গুলিতে লাল, সাদা, বেগুণী ও বিরল প্রজাতির হলুদ শাপলা ফোঁটার কারণে চারিদিকে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যে পরিণত হতো।

নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে লাল প্রজাতির শাপলা দেখা গেলেও দেখা যাচ্ছে না সাদা, গোলাপী, বেগুণী, নীল ও হলুদ শাপলা। এসব শাপলা হারিয়ে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে, নরসিংদী সচেতন মহল এর বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
কারো কারো মতে মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায়, ভূমি দস্যুরা জলাশয় ভরাট করে কৃষি জমি তৈরি, ঘর বাড়ি তৈরি, ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নরসিংদী থেকে জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে যেতে বসেছে।

এক সময়ে নরসিংদীর ঝিলে বিলে পুকুরে বর্ষা মৌসুমে নানা রঙের শাপলার বাহারি রূপ মানুষের নয়ন জুড়িয়ে দিত। গ্রামগঞ্জের মানুষের কাছে সবজি হিসেবেও খুব জনপ্রিয় এই শাপলা। অনেকে আবার শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এছাড়া শাপলায় অনেক ওষধি গুন রয়েছে। যেমন শাপলার মূল কাণ্ড খেলে আমাশয়ের মত রোগ   ভালো হয়।

এ বিষয়ে সচেতন মহল জানান, আমাদের জাতীয় স্বার্থে শাপলা ফুলকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, নতুবা অচিরেই হারিয়ে যাবে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ও জাতীয় ফুল শাপলা।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ