শিরোনাম:

‘ত্রাণ চাই না, তিস্তায় বাঁধ দিন’

রাকিবুল ইসলাম, জবি করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:৪৬
অ-অ+
‘ত্রাণ চাই না, তিস্তায় বাঁধ দিন’
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

নীলফামারী থেকে: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান-সংস্থাও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও দেয়া হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা। তবে দেশের সব অঞ্চলের মানুষ কেবলমাত্র ত্রাণের জন্য বসে আছে এমনটি নয়। বন্যাকালীন তাদের জন্য ত্রাণের যে ব্যবস্থা করা হয় তা না হলেও সমস্যা হবে না, যদি অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যার কবল থেকে মুক্তি পান তারা। নীলফামারীর তিস্তার পাশে প্রধান বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের তাই একটিই দাবি- ‘ত্রাণ নয়, তিস্তায় বাঁধ দিন’।

গত ২৯ আগস্ট ৭নং খলিশা চাপানি ইউনিয়নের ১নং ব্লকের ছোটখাতা গ্রামের বন্যা কবলিত বানভাসি মানুষেরা ব্রেকিংনিউজের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ মহলে এমন দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানায়, ঠিক সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে এলাকাটি প্লাবিত হতে থাকে। এখানের ঘরবাড়িগুলো প্রায় সম্পূর্ণ ঢুবে যায়। সন্ধ্যায় প্লাবিত না হয়ে মধ্যরাতে প্লাবিত হলে এসব এলাকার মানুষদের অবস্থা হতো আরও ভয়াবহ। তখন বৃদ্ধ-শিশুসহ অনেকেই পানিতে ঢুবে মরতে হতো। সন্ধ্যায় হওয়ায় তাদের নৌকা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

রাস্তার মত ছোট একটি বাঁধ ‘বাংলার জ্যোতি’ এর আশ্রয়ে বসবাসরত আমীর আলী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমাদের ত্রাণ চাই না, তিস্তায় বাঁধ দেন। এটুকু ত্রাণ দিয়ে কি করবো। আজ একদিনের জন্য একটু চাল, একটু আলু, একটু তেল আর অন্যান্য দিয়ে সরকার আর মানুষ আমাদের কি উপকার করতে চায় আমি বুঝি না। বলতে গেলে চোখে কান্না চলে আসে।’
 
এসময় চোখে পানি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘরে বৃদ্ধ বাবা। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আমার। মাঝরাতে বাঁধটা ভেঙে প্লাবিত হলে, আজ আমি হয়তো পুরো একা হয়ে যেতাম। কিভাবে বাঁচাতে পারতাম এতগুলো মানুষকে একসাথে।’

ছোটখাতার স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘শুধু নির্বাচন এলে তাদের বড় বড় কথা। আর নির্বাচন শেষ তো কোনও খবরও থাকে না ভদ্রলোকদের। আবার বন্যা হলে একটু আধটু ত্রাণ নিয়ে আসেন সান্ত্বনা দিতে। তারা খবর রাখেন এখানে শতশত একর ক্ষেতের জমি সব সময় হুমকিতে থাকে। আজ আমাদের এক একটি  মাছের প্রজেক্ট থেকে প্রায় কোটি টাকার উপরে লোকসান। তাদের এ সামান্য ত্রাণ দিয়ে আমাদের কিছু হবে না। এক একটি প্রজেক্টে শুধু মাছের পোনাই ছাড়া ছিল প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার। অথচ ত্রাণ নিয়ে না ভেবে আগে থেকেই যদি তিস্তায় বাঁধ দেওয়ার কথা ভাবতো তাহলে আজ আমাদের ত্রাণ লাগতো না। এমন দুর্ভোগ ও ক্ষতিও হতো না।’



তিনি বলেন, ‘এই ‘বাংলার জ্যোতি’ নামক যে বাঁধ আসলে এটি আরও বড় মাপের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একদিন এখানকার নতুন মেম্বরের সাথে গিয়ে দেখলাম, কাগজে কলমে এই বাঁধ আরও ৫ ফুট উঁচু করে বাঁধা হয়েছে। আসলে বাঁধটি পাঁচ ফুট তো দূরের কথা পাঁচ সূতাও বড় করা হয়নি। তাহলে আমরা যাবো কোথায়?’
 
এলাকার অপর এক বাসিন্দা নাজমা খাতুন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘টানা ২১ দিন পর্যন্ত পানিবন্দি ছিলাম। কিন্তু আমাদের এই অবস্থার শেষ কি শুধুমাত্র ত্রাণ দিয়েই। সারাদিনরাত আতঙ্কে থাকি। রাতভর পাহারা দেই ছোট ছোট এসব বাঁধগুলো আটকানোর জন্য। নিজেরা দিনরাত শ্রম দিয়ে মেরামত করি বাঁধগুলো, কিন্তু লাভ হয় না। কারণ আমাদের পক্ষে তিস্তার সাথে এতো বড় লড়াই করে উঠা সম্ভব নয়।’

স্থানীয়দের দাবি, এবার যে অঞ্চলে ভাঙনের ফলে প্লাবিত হয়েছে, তিস্তার সে অঞ্চল দিয়ে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটারের মত একটি বাঁধ নির্মাণ করা হলে এখানকার শত শত জমি বাঁচবে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা থেকে হাজার হাজার মানুষ মুক্তি পাবে। প্রতিবাররের বন্যায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়া থেকে মুক্তি পাবে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনোভাবেই সময় দিতে রাজি হননি। ১নং ব্লকের ইউপি মেম্বর আব্দুস সালামকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে বাঁধ নিয়ে এ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতোয়ার হোসেনের আন্তরিকতার কোনও বালাই নেই বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ব্রেকিংনিউজ/আরআই/এমআর