শিরোনাম:

শরতের কাশে ধবল পদ্মার চর

আব্দুল জাব্বার খান, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:৫৩
অ-অ+
শরতের কাশে ধবল পদ্মার চর

ঢাকা: শরতে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, রাতের আকাশে পূর্ণ চাঁদের আলোক ছটা। আর নদীর কোল জুড়ে শুভ্র কাশফুলে বাতাসের দোল খাওয়া। কি এক মোহনীয় অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করা পরিবেশ। এমন মন মাতানো এই প্রকৃতি আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ পাগল করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়।

দেখলেই ইচ্ছা করবে ছুটে বেড়াতে কাশফুলের শুভ্রতা নিয়ে। দখিনা হাওয়ার তালে তালে উৎসবের রঙে যেন রাঙিয়ে তুলেছে পদ্মার চরে বিশাল সমারোহে ফোটা কাশফুল।

প্রমত্ত পদ্মার মাঝখানে জেগে উঠা চরে ফুটেছে শুভ্র নরম কাশফুল। যে শুভ্রতা ছুঁয়ে যাচ্ছে এ পথ দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মনে। নদীর মাঝে বাতাসে ঢেউখেলা কাশের সারি দেখে মনে পড়ছে সেই শৈশবের দুরন্তপনা। কাশফুল ছুঁয়ে দুরন্ত শিশুর মায়াবী হাসি, কাশবনে লুকোচুরি, বাবুই পাখিদের ওড়াউড়ি সবই যেন স্মৃতি।

দেশের সব জায়গাতেই আগে রাশি রাশি কাশফুল দেখা যেত। এখন আবাসন প্রকল্পের নামে প্রাকৃতিক জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করার ফলে কাশফুলের দৃশ্য দেখাই বিরল।



তবে রাজধানীর ঢাকার উত্তরা, বসুন্ধরার শেষ প্রান্তে, পূর্বাচল, কেরানীগঞ্জ এলাকায় গেলে কাশবন দেখা যায়। যদিও এ দৃশ্য বেশি দিন স্থায়ী হবে না। কেননা আবাসন তৈরি হলেই অবসান ঘটবে এসব দৃশ্যের। তাইতো ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহরে ক্লান্তিকর নাগরিক জীবনে একটু শান্তির পরশ পেতে অনেকে ঘুরতে আসেন কাশফুলে ভরা পদ্মার চর এলাকা।

আমাদের দেশে সাধারণত তিন জাতের কাশ রয়েছে। সমতলে এক জাতের এবং পাহাড়ে দুই জাতের। তবে সবার কাছে সমতলের জাতটি প্রিয় এবং সহজে দর্শনযোগ্য।

কাশ ঘাসের বৈজ্ঞানিক নাম saccharum spontaneum। ইংরেজি নাম Kans grass। বাংলাদেশের নোনাজলের নদীমোহনা বাদে প্রায় সব নদীর চরে, প্রাকৃতিক জলাশয়ের ধারে কাশ জন্মে।

ভাদ্র-আশ্বিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কাশফুল ঘুরে বেড়ায় পালতোলা নৌকার মতো।

ব্রেকিংনিউজ/এজেডখান/এমআর