শিরোনাম:

বিলুপ্ত জাতের ধান রক্ষায় ইউসুফের চমক!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ০৪:০০
অ-অ+
বিলুপ্ত জাতের ধান রক্ষায় ইউসুফের চমক!
ছবি: ব্রেকিংনিউজ

রাজশাহী: রাজশাহীতে বিলুপ্ত জাতের ধান চাষে নেমেছেন কৃষক ইউসুফ মোল্লা। ২০ বছর আগে থেকে এসব বিলুপ্ত জাতের ধানের বীজ সংরক্ষণ ও চাষ করে আসছেন। তিনি এসব ধান স্বযত্নে আগলে রেখেছেন। জেলার তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এবারও তিনি বীজের পরিধি বাড়াতে ৫২ প্রকারের ধান চাষ করেছেন।

আগে রাধুনি পাগল, পাঙ্গাস, ঝিঙ্গাশাইল, কালজিরা, সুবাশ, বাঁশমতি, চিনি শঙ্কর, বাদশাভোগ, এক ধানে দুই চাল, বিন্নিসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ হতো। এসব ধানের নাম এখন আর অনেকের মনে নেই। নতুন প্রজন্ম তো দুরের কথা প্রবীণদের অনেকের মনের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে নামগুলো।

কৃষক ইউসুফ মোল্লা ব্যক্তি উদ্যোগে এসব বিলুপ্ত ধানের বীজ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষরণ করে আসছেন। ২০১২ সাল থেকে রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুরসহ সারাদেশে প্রায় ৩০০ কৃষককে তিনি এসব বীজ শর্তসাপেক্ষে সরবরাহ করেছেন। এছাড়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকায় ১০০ এর বেশি ও রাজশাহী গবেষণাগারে প্রায় ৬৫ জাতের ধান বীজ সরবরাহ করেছেন।

ইউসুফ মোল্লা একজন আদর্শ কৃষক। আদর্শ কৃষক হিসেবে অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। তার প্রচেষ্টায় বিলুপ্তি প্রায় দুই শতাধিক ধানের বীজ সংরক্ষণে আছে।

ইউসুফ মোল্লা জানান, পরিবেশ বান্ধব সুগন্ধি এসব ধান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বুঝতে পেরে ২০ বছর ধরে বীজ সংগ্রহের কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত ২০০ শতাধিক বিভিন্ন জাতের ধান বীজ তিনি সংগ্রহ করেছেন। ২০১২ সাল থেকে ৫০টি করে জাতের ধান তিনি অল্প করে আবাদ করেন। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগ্রহী কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছেন।

তিনি আরও জানান, তিনি যে সব কৃষকদের এসব হারানো ধানের বীজ সরবরাহ করছেন তা শর্তসাপেক্ষে। তা হলো বীজের বদলে বীজ। একজন কৃষক তার কাছে ৫ কেজি বীজ নিলে ধান উৎপাদনের পরে সে আবার ৫ কেজি বীজ ফেরত দিবে।

কৃষক ইউসুফ মোল্লা জানান, তার সংগ্রহে থাকা ১০০ প্রজাতির বেশি বীজ ধান গাজীপুরের গবেষণা কেন্দ্র ও রাজশাহী ধান গবেষণা কেন্দ্রে ৬৫ রকম বীজ দেয়া হয়েছে। তারা সেগুলোর বিস্তার করা নিয়ে গবেষণা করছে।

তিনি আরও জানান, তার এমন উদ্যোগে উৎসাহ জুগাচ্ছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রাসারণ ও বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষক ইউসুফ মোল্লা উদ্যোগে বিলুপ্ত হওয়া ধান সম্পর্কে নতুন প্রজন্মরা জানতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, বিলুপ্ত জাতের বীজ সংগ্রহ ও উৎপাদন একটি ভাল উদ্যোগ। জীন প্রযুক্তির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিভিন্ন জাতের উদ্ভাবন ও উচ্চ ফলনশীল করার ক্ষেত্রে কৃষি প্রকৌশলবিদরা সুযোগ পাবেন।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ