শিরোনাম:

আজও বেদনায় আঁতকে উঠে উপকূলবাসী

আতোয়ার রহমান মনির, জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৭, ০১:২৫
অ-অ+
আজও বেদনায় আঁতকে উঠে উপকূলবাসী
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

লক্ষ্মীপুর: সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর আজ। এই দিনে স্মরণকালের ভয়াবহতম এই দুর্যোগে উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও বর্তমান কমলনগর উপজেলায়সহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্টি হয় চরম দুর্যোগময় পরিস্থিতি। ১৯৭০ সালের এই দিনে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে বয়ে যায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রলয়ংকারী ঘূর্ণীঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। তখন উপকূলীয় জনপদ পরিণত হয় ধ্বংস্তুপে। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সবকিছু। উত্তাল ঢেউয়ের প্রবল স্রোতের টানে ভাসিয়ে নিয়ে যায় হাজার হাজার মানুষ, গবাদি-পশু, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সহায় সম্পদ। জনপদসম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়।  

তখনকার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১২ নভেম্বর রাতের ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটার (১৩৮ মাইল)। চারিদিকে লাশ-আর-লাশ, লাশের গন্ধে মানুষ কাছে যেতে পারেনি। ৩-১০ ফুটের জলোচ্ছ্বাসের কারণে মাটি দেয়া যায়নি মৃত মানুষগুলোকে। সেই দিনের ভয়াবহ দুযোর্গের কথা মনে পড়লে আজও এলাকার সাধারণ মানুষের মন ও পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। আঁতকে উঠে উপকূলীয় এলাকার মানুষগুলো। তিন যুগেরও বেশি আগের স্মৃতি এখনো স্বজন হারানোদের মধ্যে বয়ে বেড়াচ্ছে।
 
স্বজন হারানো একজন রামগতি উপজেলার চর গাজী ই্উপির দক্ষিণ টুমচর গ্রামের পারভীন বেগম। ১৯৭০ সালের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে তার মা, বাবা, ভাই-বোনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ওই জলোচ্ছ্বাসে তিনি কিভাবে বেঁচে গেলেন তা তিনি নিজেও জানেন না। বড় হয়ে জানতে পারলেন মামারা তাকে বাঁচিয়েছেন। এই ভাবে কেটে গেছে ৪৫ বছর। ওই দিনের স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পারভীন বেগমের মত আবদুল ওদুদ ও সিরাজ উদ্দিন ওই দিনের স্মৃতি মনে করে স্বজন হারানোর বেদানায় এখনও কেধে (আঁতকে) উঠেন।
 
রামগতির আলেকজান্ডার গ্রামের আব্দুল মোতালেব জানান, ১৯৭০ সালের যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছে তখন ছিল আমার (১৭) সতের বছর। তখন দেখেছি চরআব্দুল্লাহ্, বড়কেরী চরগজারিয়া, তেলিরচর, চরলক্ষী এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষ এখনো দুর্যোগের আশঙ্কায় থাকে সবসময়।
 
আলেকজান্ডার এলাকার বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন ভিপি হেলাল জানান, ১৯৭০সালে এ অঞ্চলের জন্য একটা ভয়াবহ দিন ছিল, রামগতি উপজেলার চর আব্দুলা, বড়খেড়ি এসব এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। লাশের উপর লাশছিল। তবে কত মানুষ ভেসে গেছে তার পরিসংখ্যান সরকারি কিংবা বেসরকারি ভাবে ও জানা যায়নি। তবে এখনকার মতে তেমন পরিবর্তন হয়নি, দূর্যোগ মোকাবেলার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে দ্রুত নদীর পাড়ে বেঁড়িবাঁধ না করলে আরেকটা সত্যের মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে কোসাক এনজিওসহ কয়েকটি স্থানীয় সামাজিক সূত্রে জানাগেছে,উপকূল সুরক্ষায় প্রথমবারের মত ‘উপকূল দিবস’টিতে আজ রবিবার উপকূলবর্তী ১৫  জেলার ৩২ উপজেলার ৩৪ স্থানের দিবসটি নিয়ে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসক হোমায়েরা বেগম সমকালকে জানান, ১৯৭০ সালে যে অবস্থা ছিল এখন ২০১৪ সাল পর্যন্ত রামগতি ও বর্তমান কমলনগর উপজেলায়সহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় অনেক উন্নতি হয়েছে। এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত অনেকগুলো সাইক্লোন সেন্টার হয়েছে, সেগুলোতে কোন পূর্বাভাস পেলেই সাথে সাথে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার মত ব্যবস্থাও আছে। ঘূর্ণীঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় ইউনিয়ন থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে  প্রতিটি কমিটি রয়েছে। কমিটির লোকজন কোন রকম পূর্বাভাস পেলেই সাথে সাথে তৎপর হয়ে সর্বত্র সর্তক করে ঘূর্ণীঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় ভুমিকায় রাখবেন।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ