শিরোনাম:

ক্রমেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:৫৩
অ-অ+
ক্রমেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

রাজশাহী: এবারে রাজশাহী অঞ্চলে শীত আগে ভাগেই কড়া নেড়েছে। অগ্রহায়ণের শুরু থেকেই রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে হালকা শীতের আবহ শুরু হয়েছে। আর এখন মধ্য অগ্রহায়ণে এসে ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে শীতের মাত্রা।

ভোরের সূয্য উঠার আগেই দূর্বাঘাসের ওপরে শিশির বিন্দু জমছে। ঘাস আর শিশিরের বিন্দু যেন খুনসুটি খেলায় মেতেছে। আবার উত্তরের হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডা পরিবেশ বিরাজ করছে রাজশাহী অঞ্চলে। শীতল হাওয়ায় এরইমধ্যে গায়ে উঠেছে গরম কাপড়। বাতাসের আদ্রতা কমতে শুরু হওয়ায় শুষ্ক ত্বকে টান ধরছে। যতই দিন যাচ্ছে সূর্যতাপ ততই কমছে। আর ক্রমেই বাড়ছে শীত।  

রাজশাহী অঞ্চলে সকাল-সন্ধ্যা ও রাতে অনেকটা শীত জেঁকে বসতে শুরু করেছে। অগ্রহায়ণের শুরুতেই শীত নেমেছে রাজশাহীসহ উত্তরের শহরগুলোতে। সকালের মিষ্টি রোদের অপেক্ষাতেই এখন ঘুম ভাঙছে শীতার্ত মানুষের। ঘুম ভাঙলেও লেপ ছেড়ে বেরুতে বড্ড দেরি হচ্ছে। উঠছি উঠছি করেই অনেকেই ঘণ্টা পার করছেন।

আর সামর্থদের শরীরে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে শিমুল তুলার লেপ-গরম কম্বল, সুয়েটার, জ্যাকেট। ভোরে ও সন্ধ্যায় শীতবস্ত্র ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাচ্ছেনা। তাই বছর ঘুরে আবারও কেনাবেচা শুরু হয়েছে ফুটপাথের ভাসমান শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতেও।
     
কেবল শহরেই নয়, গ্রামবাংলায়ও শীত পড়ছে। রাজশাহী অঞ্চলের আশপাশের জেলাগুলোতেও পুরোদমে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। বাজারে উঠেছে শীতের সবজি টমেটো, শিম, মুলা ও নতুন আলুসহ শীতের বিভিন্ন সবজি। এরই মধ্যে অগ্রহায়নেই আমন কাটা ও মাড়াই শেষে এই ধান ঘরে উঠতে শুরু করেছে। চারিদিকে তাই শুরু হয়ে শীতের উৎসব। শহরে বিক্রি হতে শুরু করেছে শীতের পিঠা। সন্ধ্যার পর ভাপা পিঠার গরম ভাপে মোড়ে মোড়ে চলছে শীত উদযাপন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, অনেক বছর পর উত্তরাঞ্চলে এবার স্বাভাবিক নিয়মেই শীত নামতে শুরু করেছে। আগেই পূর্বাভাস ছিল, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই এবার শীত পড়তে শুরু করবে। রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। এর সঙ্গে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদী অববাহিকায় ভোরে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।  

আর ডিসেম্বর মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে এ সময় প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা সূর্যের দেখা মিলবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে দুই-একটি মৃদু অথবা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলজুড়ে ঠান্ডায় কপোকাত হতে পারে জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এছাড়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলে আরও ২ ডিগ্রি কমে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলিসয়াসে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশাও পড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২১ নবেম্বর থেকে রাজশাহীতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। ওই দিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনি¤œ ছিল ১৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন ২২ নবেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এরপর ক্রমেই কমতে শুরু করেছে উত্তরের তাপমাত্রা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেলা ৩ টায় ছিলো ২৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরমধ্যে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিও ছুয়েছে কয়েকদিন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, এবার স্বাভাবিক নিয়মেই শীত পড়তে শুরু করেছে। স্বাভাবিক গতিতেই তাপমাত্রার পারদ নীচের দিকে নামছে। ধীরে ধীরে কমছে সর্বনি¤œ তাপমাত্রাও।

সাধারণত নভেম্বর মাসে দেশে হাড় কাঁপানো শীত খুব একটা পড়ে না। এর কারণ হচ্ছে সূর্য যতো দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে যাবে শীতের তীব্রতা ততটাই বাড়তে থাকবে। তাছাড়া দিনের ব্যাপ্তি কমে আসায় ডিসেম্বর থেকেই শীত শুরু হয়। এর সঙ্গে সাইবেরিয়া থেকে আসা হিমেল বাতাস যোগ হয়। ফলে হাড় কাঁপানো শীত পড়তে শুরু করে। তাই ডিসেম্বরে শীতের এই তীব্রতা আরও বাড়বে।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ