শিরোনাম:

‘সিলেট স্বর্গ’ বিছানাকান্দি মায়া ছড়ায়

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ০৮ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:২৯
অ-অ+
‘সিলেট স্বর্গ’ বিছানাকান্দি মায়া ছড়ায়

সিলেটে বাংলাদেশের সীমান্তে মেঘালয় পাহার থেকে নেমে আসা ঠাণ্ডা পানির প্রবল স্রোত থরে থরে সাজানো পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলে। ঠিক যেন একটি পাথুরে নদী। বিছানাকান্দি জায়গাটি বেশ মনোরম এবং ভ্রমণের একটি আদর্শ স্পট।
 
বিছানাকান্দি যেতে হলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে সর্বপ্রথম আপনাকে প্রকৃতির অপরূপ হাতে সাজানো সিলেট শহরে আসতে হবে। সিলেট শহরে ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য অনেক হোটেল রয়েছে। ৩০০টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া পাওয় যায়। নিরাপত্তাও ভাল। দরগাগেটে কয়েকটি ভাল হোটেল আছে।
 
বিছানাকান্দি যেতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট যেতে হবে। সেখানে বিমানবন্দর রোডের দিকে সিএনজি স্টেশন আছে। সিএনজি হাদারঘাট নামক জায়গা পর্যন্ত রিজার্ভ করে গেলে ভাল হয়। পাঁচজন মিলে ৪০০টাকায় সাধারণত ভাড়া নেওয়া হয়। তবে মানুষ কম থাকলে ৮০টাকা জনপ্রতিও যাওয়া যায়।
 
বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তা অনেক সুন্দর। চারপাশে শুধু সবুজ চা বাগান। নীল আকাশ আর যেন সবুজ কার্পেটের উপর তাবু টানিয়েছে। বিমানবন্দর থেকে সালুটিকর রাস্তায় প্রবেশ করলেই রাস্তা চরম খারাপ। পিচ ঢালা কালো রাজপথে একটু পরপরই ভাঙ্গা গর্ত। মনে হয় একটু আগেই যেন এ পথে গডজিলা হেঁটে গিয়েছে। ভারী বালুর ট্রাকগুলো রাস্তার এ দশা করেছে।
 
খারাপ রাস্তা পার হয়েই আপনি একদম গ্রামের ভেতর ঢুকে যাবেন। সিলেটের গ্রামগুলো যেমন সবুজ বৃষ্টিতে ধুয়ে রেখেছে। চিকন রাস্তাগুলো সাপের মতোই আঁকাবাঁকা হয়ে গ্রামের মাঝখানে। একটু পরপর দেখা যায় দুষ্টু ছেলের দল ন্যাংটু হয়ে ফুটবল খেলছে।
 
গ্রাম দেখতে দেখতে আপনি হাদারঘাট এসে পৌঁছাবেন। হাদারঘাট বাজারটি খুব একটা বড় না আবার ছোটও না। মুটামুটি সবকিছুই পাবেন। খাবার, পানি, কাপড় সবই কিনতে পাওয়া যায়। তবে খাবার না নিয়ে যাওয়াই ভাল। কারণ বিছানাকান্দি প্রকৃতির কোলে জেগে উঠেছে। সেখানে পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি ফেলে কেন জায়গাটি অপরিষ্কার করার যুক্তি নেই।
 
হাদারপার বাজারেই বিছানাকান্দি যাওয়ার নৌকা পাওয়া যায়। সুন্দর বেশভুষা দেখে মাঝিরা ২০০০টাকা চেয়ে বসতে পারে। ভুলেও রাজি হবেন না। নৌকা ভাড়া আসা-যাওয়া সর্বোচ্চ ৫০০টাকা হলে ভাল। দরাদরি করে এর চেয়ে কমে পেলে ভাল তবে অবশ্যই এর বেশি দামে যাবেন না। এর চেয়ে হেঁটে যাওয়া ভাল।  তবে যদি হেঁটে বিছানাকান্দি যান তাহলে আপনাকে এরকম কয়েকবার নৌকা দিয়ে পার হতে হবে।
 
হাঁটতে হাঁটতে এক সময় পৌঁছে যাবেন বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে। বিজিবির একটি অফিস আছে একদম শেষ মাথায়। বিছানাকান্দি নামার আগে অবশ্যই তাদের সাথে পরামর্শ ও অনুমতি নিয়ে নিবেন।
 
শীতল জলে গা জুড়িয়ে যায়। মনে হবে বিছানাকান্দির পাথুরে বিছানায় শুয়ে থাকেন।পাথুরে নদীর দেখে সবাই পাথরের ওপর পা রেখে নদী পার হতে চায়। তবে এটা বিপদজনক। কারণে নদীতে স্রোত বেশ প্রবল।কিন্তু প্রকৃতির অপরূপ শোভা আর মেঘালয়ের ঝরনা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হবেন।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা