শিরোনাম:

আজব প্রাণীর নীরব ঘুম

মজার খবর ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭, ০৪:০০
অ-অ+
আজব প্রাণীর নীরব ঘুম

ঢাকা: ঘুম মানুষকে স্বস্তি দেয়। তাহলে কি প্রাণীদেরও তাই দেয়! পৃথিবীতে কিছু অদ্ভুত প্রাণী আছে যারা বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়েই কাটায়। আসুন জেনে নেয়া যাক সেই প্রাণীগুলো সম্পর্কে।

পাণ্ডা
কুংফু পাণ্ডা অ্যানিমেশন ফিল্ম সম্পর্কে পাঠকরা কমবেশি জানেন। অ্যানিমেশনের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। অ্যানিমেশনে দেকা ড্রাগন ওয়ারিয়র পাণ্ডা দিন রাত মিলিয়ে ১০ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটায়। পাণ্ডা দিনে দুটো কাজই করে একটা খাদ্য অনুসন্ধান অন্যটি ঘুমানো। পাণ্ডা সারাদিন বাঁশ খোজাখুজি করে। খাওয়ার পর পাণ্ডা তার প্রিয় গাছে উঠে ঘুম দেয়।



পিপীলিকাভুক
পিপীলিকাভুক খুব ধীরগতির প্রাণী। পিঁপড়েভুক এর অপর নাম একিডনাস। এরা খুব নির্জনতা পছন্দ করে। সূর্যের তাপ থেকে সবসময় নিজেদের বাঁচিয়ে চলে। এজন্য সম্ভবত এরা বেশি ঘুমায়। একিডনাস ঘুমের পেচনে ব্যয় করে ১২ ঘণ্টা। মজার তথ্য, এরা ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটিয়ে থাকে। ছোটখাটো একটা কাঁটাওয়ালা একিডনাস কুঁকড়ে ফুটবলের মত আকার ধারণ করতে পারে।



কাঠবিড়ালি
না আপনি ভুল দেখছেন না। এই কর্মতৎপর প্রাণীটিও আলসে কম নয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ঘুম দেয় সে। কাঁঠবিড়ালি ঘুমাতে পছন্দ করে। কেননা তার খাদ্যের মেন্যুতে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং চর্বি থাকে। এ লোমশ প্রাণী কাঁঠ, পাতা, পশম, পালক ও নরম উপাদান দিয়ে তৈরি বাসায় থাকতে পছন্দ করে।



লেমুর
সাধারণত মাদাগাস্কার অঞ্চলে দেখতে পাওয়া এ প্রাণীটি মোট ১৬ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে। লেমুর দিনের বেলায় একাকী ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। তবে তারা রাতের বেলায় দলবদ্ধভাবে ঘুমায়। এবং মজার বিষয় তারা একত্রে পা টেনে টেনে চলে। তবে বর্তমানে মাদাগাস্কারে বন উজাড় হতে থাকায় এরা অস্তিত্ব সঙ্কটে।



পেঁচামুখো বানর
পেঁচামুখো বানর নিশাচর প্রাণী, এরা বর্ণান্ধ। এদের বৈজ্ঞানিক নামকরণটা বেশ মজার। এদের গোত্রীয় নাম অটাস যার অর্থ কর্ণহীন। এরা বছরে একটার বিশি বাচ্চা জন্মদান করতে পারেনা। তবে এরা বেশ অলস হয়ে থাকে। দিনে ১৭ ঘণ্টা ঘুমায়। তারপর রাতের বাকিটুকু অংশ জেগেই কাটিয়ে দেয়।



আরমাডিল্লো
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরমাডিল্লো নিয়ে গবেষণা চলছে। এদের শেল মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট এর অংশ হিসেবে ব্যবহার হয়। মূলত সন্ধ্যায় খুব কর্মব্যস্ত থাকে এরা। যার ফলে দিনের অধিকাংশ সময় এরা ঘুমিয়ে কাটায়। কিন্তু বিজ্ঞানিরা এরা কেন এত ঘুমায় তা খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়নি। এরা মোট ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটায়।



ওপোস্সাম
এরাও খুব ধীর গতির প্রাণী। এরা আক্রমণ বা হুমকির সম্মুখীন হলে মরার ভান করে পড়ে থাকে। ৪০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা তারা এ অভিনয় করে ঘুমিয়ে থাকতে পারে। এরা শুধু সেখানেই থাকে যেখানে খাবার, পানি ও আশ্রয় থাকে। যতক্ষণ যায়গাটা অন্ধকার ও নির্জন থাকছে ততক্ষণ ঘুমও চলবে। এরা একদিনে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে।



বাদুড়
বাদুড়রা জন্ম থেকেই অন্ধ। এরা শব্দ প্রতিধ্বনীর মাধ্যমে সামনে যা আছে তা বুঝতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বহুল আলোচিত ইবোলা ভাইরাস বাদুড়দের দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে। এরা মাত্র ৪ ঘণ্টা জেগে থাকে। অর্থ্যাৎ ২০ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটায়। এরা পুরো ছয় মাস শীতঘুমে কাটায়। কারণ এ ছয় মাস তাদের খাদ্য স্বল্পতা থাকে।



স্লথ
নামের অর্থই যার আলসে। স্লথই প্রাণী রাজ্যে সবচেয়ে আলসে কিনা তা বিতর্কের বিষয়। এরা পুরো দিনটা জলাভূমির গাছের চূড়ায় তার বাসায় ঘুমিয়ে কাটায়। যখন গাছেই সবকিছু হয় তখন অন্য কোথাও কেন? এরা গাছে প্রায় সবকিছুই করে। ঘুমানো থেকে শুরু করে বাচ্চা ভূমিষ্ট করা, সব কিছুই গাছে!



কোয়ালা
এদের বাসস্থল অস্ট্রেলিয়ায়। ধরুন, আপনি লাঞ্চ বা ডিনার করার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লেন! কোয়ালারা ইউক্যালিপটাস পাতা খেয়ে এমনই করে। এদের আঁশ জাতীয় খাবার হজম করতে বেশ সময় ব্যয় হয়। এজন্য দিনের ৭৫ ভাগ সময় গাছে ঝিমিয়ে, ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয় এরা। সারা জীবনের প্রায় ৮০ ভাগ সময়ই ঘুমের রাজ্যে কাটায় কোয়ালা!

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এসজেড