শিরোনাম:

গাপ্পি মাছে যাবে কি চিকনগুনিয়া?

স্টাফ করেসপোন্ডেন্ট
প্রকাশিত : সোমবার, ০৭ অগাস্ট ২০১৭, ০৮:৩৫
অ-অ+
গাপ্পি মাছে যাবে কি চিকনগুনিয়া?

ঢাকা: চিকনগুনিয়া ২০০৮ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম দেখা দেয়। কিন্তু এই মশাবাহিত রোগের ভয়াবহতা বাংলাদেশ দেখেছে চলতি বছরে। রাজধানী ঢাকা শহরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি এখনও। সম্প্রতি রোগ পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা   রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) চিকুনগুনিয়া নিয়ে জরিপ চালায়। 

সেই জরিপে চিকুনগুনিয়ার উপস্থিতির ধারণা পাওয়ার জন্য এ রোগের উপসর্গের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৭৭৫ জনের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এতে ৩৫৭জন জ্বর ও গিরা ব্যথায় ভুগছেন ও ভুগেছেন বলে জানায়। 

কিন্তু মশা নিধনে ব্যর্থ ঢাকার দুই নগর পিতা। একজন তো সমালোচনার জবাবে বলেই দিয়েছিলেন ‘ঘরে ঘরে গিয়ে মশা মারতে পারবো না।’ অবশ্য পরক্ষণেই নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। মশার ঔষধ ছিটিয়েছেন শহরজুড়ে।

মশা নিধনে ব্যর্থতার মুখে এবার অভিনব পন্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন,  ‘পয়ঃনিস্কাশন ড্রেনে গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে।  গাপ্পি মাছ দৈনিক ৫০টি মশার লার্ভা খেতে সক্ষম। তাই সিটি কর্পোরেশন ৪৫০ কিলোমিটার ড্রেনে প্রাকৃতিক উপায়ে মশক নিধনের এই কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এজন্য গাপ্পি মাছের ১৫ লাখ পোনা প্রয়োজন।’

কিন্তু মশা নিধনের এমন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নগরবাসী। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন আসে, এডিস মশা কি শুধু নর্দমোতেই বাড়ে? মেয়র আনিসুল হকও কিছুদিন আগে নগরবাসীকে পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছিলেন, এই এডিস মশা বাড়ে লোকজনের বাড়ির ফুলের টবে, ভাঙা পাত্রে, বা এয়ারকন্ডিশন মেশিনের ফাঁকফোকরে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে । বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু দক্ষিণের নগর পিতা জানালেন উল্টোটা। তার কথায়, চিকুনগুনিয়ার জীবাণু বহনকারী এডিস মশা ঠেকাতেও এই গাপ্পি মাছ কার্যকর হবে বলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন।

শুধু কি নর্দমায় মাছ ছাড়লেই মশা দূর করা যাবে? সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে এ প্রশ্ন করা হলে সাঈদ খোকন বলেন, ‘শুধু এডিস মশা ঠেকানোর জন্যই এ প্রকল্প তা নয়।’

এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে, তবে অল্প কিছুসংখ্যক বিশেষজ্ঞ আছেন যারা বলেন, নোংরা পানি এবং প্রবহমান পানিতেও বিস্তার লাভ করতে পারতে পারে।

চলতি বছর বর্ষা মওসুমের শুরু থেকে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনায় পড়ে সিটি করপোরেশন। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই মাসে ‘সব শক্তি এক করে’ মশক নিধনে নামেন দক্ষিণের মেয়র।

রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে এসেছে দাবি করে সেমিনারে মেয়র বলেন, ‘এখন এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে না। গত সাত দিনে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয়নি। তার মানে এই রোগ আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।’

সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত এই মাছ। গাপ্পি মূলত ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশের মাছ। এরা নানা জাত ও বিচিত্র রঙের হয়। আকতি-প্রকৃতিও নানা রকম। চোখগুলো বড় বড়, ঠোঁট একটু উপরের দিকে ওঠা। পুরুষদের পাখাগুলো মেয়েদের পাখার চেয়ে বড়। পুরুষের রঙের বাহারও মেয়েদের চেয়ে বেশি। মেয়েরা আকারে বড় (২-৬ সেমি) হয় ছেলেদের (১.৫-৩ সেমি) তুলনায়।এরা সবরকম আবহাওয়ায় বাঁচে। জলাশয়ের উপরের স্তরেই মূলত ঘোরাফেরা করে। ২০ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই এদের বেশি পছন্দ। সব রকম খাবারই খায়। এরা সরাসরি বাচ্চা দেয়। বাচ্চাগুলো বড় হতে সময় লাগে ৬-৮ সপ্তাহ। অ্যাকুরিয়ামে পালার জন্যও মাছটি জনপ্রিয়।

চিকুনগুনিয়া রোগটি ১৯৫২ সালে প্রথম আফ্রিকা মহাদেশের দেশ তানজানিয়াতে দেখা দেয়। তবে, ১৮২৪ সালে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে একই রকম উপসর্গের জ্বরের অস্তিত্বের কথাও জানা যায়। যাই হোক, এ জ্বর এখন কিন্তু আফ্রিকা, এশিয়া এবং আমেরিকা মহাদেশের মোট ৬০ টি দেশে বিরাজমান।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরে যেমন প্লাটিলেট সংখ্যা কমে গিয়ে রক্তক্ষরণের কারণে জীবনহানির আশংকা তৈরি হয়; চিকুনগুনিয়া জ্বরে তা হয় না। ফলে এ জ্বর হলে আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের মতোই এক সময় এটা আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। তবে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনেক সময় এত তীব্র হয় যে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁটাচলা করা খুব কষ্টসাধ্য হয়। সামনে কিছুটা ঝুঁকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে হয়। এ কারণে একে ‘ল্যাংড়া জ্বর’ও বলা হয়ে থাকে। 

ব্রেকিংনিউজ/ইএইচ