শিরোনাম:

মুক্তামণির সফল তৃতীয় অস্ত্রোপচার

মেডিকেল করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০২:১৫
অ-অ+
মুক্তামণির সফল তৃতীয় অস্ত্রোপচার

ঢাকা: বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামণির হাতে তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সফলভাবে শেষ হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আ‌ইসিইউ) রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় মুক্তামণিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ও মুক্তামণির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. সামন্ত লাল সেন ব্রেকিংনিউজকে জানান, মুক্তামণির অস্ত্রোপচার করতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। অস্ত্রোপচারের সময় তাকে চার ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার আবারও অস্ত্রেপচার করা হবে।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট বার্ন ইউনিটে তার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার শুরু হয়। ২০ শতাংশের মতো শেষ হওয়ার পর জ্বর আসায় অস্ত্রোপচার মুলতবি রাখা হয়।

তারও আগে গত ১২ আগস্ট প্রথম দফায় ১১ বছরের শিশু মুক্তামণির ডান হাত অক্ষত রেখেই দু’ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের পর ফের অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘মুক্তামণির হাত থেকে ৩ কেজির মতো বাড়তি মাংস অপসারণ করা হয়েছে। টিউমার অপসারণে ফের কয়েকদফা অস্ত্রোপচার করতে হবে।’

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা গত ২৭ জুলাই ভিডিওতে মুক্তামণিকে ও তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন দেখেন এবং ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বোর্ড মিটিং করেন।

পরে ই-মেইলে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালটি জানিয়েছিল যে, এই রোগটি ভালো হওয়ার নয় ও সেটি অস্ত্রোপচার করার মতোও নয়।

এ পর্যবেক্ষণ জানার পর গত ২ আগস্ট ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সভায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে বায়োপসি করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। সে অনুসারে গত ৫ আগস্ট সফলভাবে মুক্তামণির বায়োপসি অপারেশন করা হয়।

বায়োপসি রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানতে পারেন, রক্তনালীতে টিউমার বা ‘হেমানজিওমা’ রোগে আক্রান্ত শিশুটি। পরে ডান হাতটি কেটে ফেলার ঝুঁকি থাকলেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন মেডিকেল বোর্ড।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন ও আসমা খাতুন দম্পতির মেয়ে মুক্তামণির ডান হাতে প্রথমে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়! এক পর্যায়ে হাতে পচন ধরে। সাদা রঙের শত শত পোকা ঘুরে বেড়াতে থাকে সেই ফুলে যাওয়া অংশে। শরীরের অসহ্য ব্যথা ও যন্ত্রণায় মুক্তামণি বসতেও পারতো না। হাতের সঙ্গে বুকের একাংশেও ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। দীর্ঘ নয় বছরেও মুক্তার রোগ ধরতে পারেননি চিকিৎসকরা।

এরপর সংবাদমাধ্যমে তার কথা উঠে এলে গত ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রেকিংনিউজ/এমএস