শিরোনাম:

মুক্তামনির হাতে আবারও অস্ত্রোপচার

মেডিকেল করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : রবিবার, ০৮ অক্টোবর ২০১৭, ১২:০১
অ-অ+
মুক্তামনির হাতে আবারও অস্ত্রোপচার
ফাইল ছবি

ঢাকা: হেমানজিওমা রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামনির হাতে আবারও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। রবিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সােয়া ১০টায় তার অস্ত্রোপচার শেষ হয়। তার হাতে নতুন করে চামড়া লাগানো হয়। তাকে এখন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। 

সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যাওয়া হয়। অস্ত্রোপচার শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে ওটি থেকে বের করা হয়।  

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ও মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ‘নতুন চামড়া লাগানোর জন্য মুক্তামনির হাতটি উপযুক্ত করে আজ তার হাতে নতুন চামড়া লাগানো হয়েছে। এটা তার সুস্থ হওয়ার প্রথম ধাপ। সে এখন ভালো আছে।’ 

গত ৫ সেপ্টেম্বর মুক্তামনির অস্ত্রোপচার করা হয়। এর আগে গত ২৯ আগস্ট বার্ন ইউনিটে তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। ২০ শতাংশের মতো শেষ হওয়ার পর জ্বর আসায় অস্ত্রোপচার মুলতবি রাখা হয়। গত ১২ আগস্ট প্রথম দফায় ১১ বছরের শিশু মুক্তামনির ডান হাত অক্ষত রেখেই দু’ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের পর ফের অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন।

সেবার তিনি বলেছিলেন, ‘মুক্তামনির হাত থেকে ৩ কেজির মতো বাড়তি মাংস অপসারণ করা হয়েছে। টিউমার অপসারণে ফের কয়েকদফা অস্ত্রোপচার করতে হবে।’

গত ২৭ জুলাই ভিডিওতে মুক্তামনিকে ও তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন দেখেন এবং ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বোর্ড মিটিং করেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা। পরে ই-মেইলে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালটি জানিয়েছিল যে, ‘রোগটি ভালো হওয়ার নয় এবং সেটি অস্ত্রোপচার করার মতোও নয়’।

এ পর্যবেক্ষণ জানার পর গত ০২ আগস্ট ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সভায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে বায়োপসি করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। সে অনুসারে গত ৫ আগস্ট সফলভাবে মুক্তামনির বায়োপসি অপারেশন সম্পন্ন হয়।

বায়োপসি রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানতে পারেন, রক্তনালীতে টিউমার বা ‘হেমানজিওমা’ রোগে আক্রান্ত শিশুটি। পরে ডান হাতটি কেটে ফেলার ঝুঁকি থাকলেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন মেডিকেল বোর্ড।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন ও আসমা খাতুন দম্পতির মেয়ে মুক্তামনির ডান হাতে প্রথমে টিউমারের মতো হয়। ৬ বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়! একপর্যায়ে হাতে পচন ধরে। সাদা রঙের শত শত পোকা ঘুরে বেড়াতে থাকে সেই ফুলে যাওয়া অংশে। 

শরীরের অসহ্য ব্যথা ও যন্ত্রণায় মুক্তামনি বসতেও পারতো না। হাতের সঙ্গে বুকের একাংশেও ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। দীর্ঘ নয় বছরেও মুক্তার রোগ ধরতে পারেননি চিকিৎসকরা। এরপর সংবাদমাধ্যমে তার কথা উঠে এলে গত ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 ব্রেকিংনিউজ/ এইচ/ এসএ