শিরোনাম:

ভাত ও ডাল একসাথে খাওয়া কেন ভালো

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:৪৩
অ-অ+
ভাত ও ডাল একসাথে খাওয়া কেন ভালো

পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে ভাত এবং ডাল খুবই প্রচলিত একটি খাবার। এবং একইসাথে অনেক জনপ্রিয়। আমরা ডাল বলতে যেগুলিকে বুঝি, সারা পৃথিবীতেই এগুলি খাদ্য হিসেবে এগুলি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এবং উপমহাদেশে যেভাবে ডাল রান্না করা হয়, এবং ভাতের সাথে খাওয়া হয় তা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না।
 
এখন পশ্চিমা দেশগুলিতে একসাথে ভাত এবং ডাল ইন্ডিয়ান খাবার হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে এবং এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ভাত এবং ডাল আমাদের কাছে খুব ‘সিম্পল’ একটি খাবার। তবে এর অনেক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা আছে। একসাথে ভাত এবং ডালের খাবার হিসেবে কী কী উপকার আছে তা দেখে নেওয়া যাক।
 
প্রোটিন বা আমিষের সংমিশ্রণ: ২০টি আলাদা আলাদা ধরনের অ্যামিনো এসিড দিয়ে প্রোটিন গঠিত। এই অ্যামিনো এসিডগুলির বেশিরভাগই শরীর নিজেই উৎপন্ন করতে পারে। কিন্তু ৯ ধরনের অ্যামিনো এসিড শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। এগুলি আসে আমাদের খাদ্য থেকে। এই ৯টি অ্যামিনো এসিডকে বলা হয় এসেনশিয়াল বা দরকারি অ্যামিনো এসিড।
 
বিভিন্ন উদ্ভিদজাতীয় খাবারের মধ্যে বিভিন্ন পরিমাণে এই অ্যামিনো এসিড থাকে। মসুর ডাল এবং অন্যান্য কলাইয়ের মধ্যে বেশি পরিমাণে লাইজিন থাকে— এই অ্যামিনো এসিড আবার ভাতে থাকে না। আবার ভাত এবং এই জাতীয় দানাদার শস্যে সালফার জাতীয় অ্যামিনো এসিড বেশি থাকে— যেটা ডাল বা কলাইয়ে থাকে না।
 
২০ ভাগ ডাল এবং ৮০ ভাগ ভাতের মিশ্রণে প্রয়োজনীয় সবগুলি অ্যামিনো এসিড থাকে। ফলে সম্পূর্ণভাবে প্রোটিন বা আমিষ পাওয়া যায়।
 
ভালো ভাবে আঁশ বা ফাইবারের চাহিদা পূরণ করে: ভাত যেভাবেই রান্না করা হোক না কেন, তাতে যথেষ্ট পরিমাণ প্রয়োজনীয় খাদ্য-আঁশ বা ডায়েটারি ফাইবার থাকে না। এক কাপ ভাতে মাত্র ৬০০ মিলিগ্রাম খাদ্য-আঁশ বা ডায়েটারি ফাইবার থাকে। আপনার প্রতিদিন যে পরিমাণ ডায়েটারি ফাইবার দরকার, এই পরিমাণ তার মাত্র ২ শতাংশ।
 
আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এই পরিমাণ ভাতে যদি আপনি মাত্র দুই টেবিল চামচ ডাল নেন তাহলে ডায়েটারি ফাইবারের পরিমাণ হয় ৩.৬ গ্রাম, অর্থাৎ আপনার দৈনন্দিন চাহিদার ১৬ শতাংশ। ফলে, ভাত এবং ডালের সংমিশ্রণ থেকে আপনার দৈনন্দিন চাহিদার বেশিরভাগ ডায়েটারি ফাইবার পাওয়া যায়।
 
আবার এক কাপ লাল চালের ভাতে ৩.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে, আপনার দৈনন্দিন চাহিদার ১৪ শতাংশ। তার মানে, লাল চালের ভাত আর ডালের মিশ্রণ থেকে ফাইবার আরো বেশি পাওয়া যায়।
 
অন্যান্য পুষ্টিগুণ ও সুবিধা: ডাল বেশি ডায়েটারি-ফাইবার দিয়ে থাকে, তবে সম্পূর্ণ পুষ্টির বিবেচনায় ভাতের গুরুত্ব অনেক, ভাতও সমান দরকারি।
 
প্রতিদিন আপনার যে পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ দরকার, তার ৩৭ শতাংশ পাওয়া যায় ভাত থেকে। ভাত থেকে আপনার দৈনন্দিন চাহিদার ১৭ শতাংশ সেলেনিয়াম ও তার চেয়ে কিছু কম পরিমাণের মিনারেল ও বি ভিটামিন পাওয়া যায়।
 
আবার, মাত্র চার টেবিল চামচ ডাল থেকে দৈনন্দিন চাহিদার ১২ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ, ৮ শতাংশ আয়রন, ৮ শতাংশ ফসফরাস, ৮ শতাংশ কপার, ২০ শতাংশ ফোলেট বা ফলিক এসিড পাওয়া যায়।
 
লাল চালের ভাত বা ব্রাউন রাইসে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়াম ও বি ভিটামিন থাকে।
 
একসাথে ভাত ও ডাল খাবার হিসেবে সিম্পলই শুধু নয়, এই খাবার প্রোটিন,  অনেক পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিনের ভালো উৎস।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা