শিরোনাম:

৭ পুরসভার ভোট: উত্তেজনা, শঙ্কা ও সম্ভাবনা

ভারত ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৩:০৭
অ-অ+
৭ পুরসভার ভোট: উত্তেজনা, শঙ্কা ও সম্ভাবনা

ঢাকা: শঙ্কা ও উত্তেজনার মধ্যে রবিবার সকাল থেকে ভারতের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৭ পুরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট স্থগিত রয়েছে।

এদিকে আজ যে ৭ পুরসভায় ভোট তার ৬টিই এখন শাসক দলের দখলে। তবে বুনিয়াদপুরে এবারই প্রথম ভোট হওয়ায় সেটির কোনও একক দখল নেই। 

এদিকে পুরসভার ভোট নিয়ে আহামরি স্বপ্ন দেখছে না বিরোধীরাও। তবে যেখানে তাদের যতটুকু অর্জন আছে অন্তত সেটুকু ধরে রাখতে মরিয়া তারা। অবশ্য আত্মবিশ্বাসে ভরপুর তৃণমূলের বক্তব্য, সর্বত্রই জয় নিশ্চিত। 

তবে তৃণমূলের বক্তব্যে আগ্রাসী ভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা বলছে, যেসব কেন্দ্রে ভোটে জেতা না যাবে সেসব কেন্দ্রে দল ‘জিতে নেওয়ার’ তত্ত্ব প্রয়োগ করবে। 

বলপ্রয়োগের অনৈতিক এই তত্ত্বই আজ ওই ৭ পুরভোটে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি করছে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনও নীরব। ফলে বিরোধীরা অনেক কেন্দ্রের উপরই আস্থা রাখতে পারছেন না। 

যদিও তৃণমূলের দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই নানা কথা ছড়াচ্ছে বিরোধীরা।

এদিকে ভোট শুরুর পর রবিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের এক মুখপাত্র দেশটির গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনার সব কটি পুর এলাকা ঘুরে এসেছেন। পুলিশকে শান্তি বজায় রাখতে বলেছেন। এর বেশি আর কী করতে পারেন তিনি!’ 

তবে এই বক্তব্যকে কমিশনের অসহায়তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে বিরোধীরা। তাদের মতে, আজ শাসক দলের দাপট, মারপিট এবং বুথ দখলের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। 

শনিবার রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। মানুষ উন্নয়নের জন্য আমাদেরই জয়যুক্ত করবে।’

৭ পুরসভার মধ্যে সব দিক থেকে বড় দুর্গাপুর। ৪৩ ওয়ার্ডের এই পুরসভায় গতবার তৃণমূল জিতেছিল ২৮টি আসনে। পরে দু’জন বিরোধী কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে মেয়র অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় ৪৮ হাজার ভোটে হেরেছেন। তৃণমূলও পিছিয়ে ছিল ৪০টি ওয়ার্ডে।

এ বার মেয়রসহ ১২ জন কাউন্সিলরকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। অন্যদিকে, ব্যাপকভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বামেরাও উপস্থিত বন্ধ কারখানা-নগরীতে।

গত বার ১৬টি ওয়ার্ডে জিতে হলদিয়া পুরসভা দখল করেছিল বামেরা। কিন্তু মাঝপথে ক্ষমতা হারায় তারা। ১১ জন বাম কাউন্সিলর নাম লেখান তৃণমূলে। তাদের সকলকেই টিকিট দিয়েছে শাসক দল। এবার গোড়াতেই পুরসভা দখল করা যাবে বলে আশাবাদী হলদিয়ার দায়িত্বে থাকা পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার কথায়, ‘মানুষের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প কোথায়?’

তবে বাম ও বিজেপির শক্ত অবস্থানের কারণে পাঁশকুড়ার জয় নিয়ে কিছুটা শঙ্কার মধ্যে পড়তে হচ্ছে মমতার তৃণমূলকে। 

এদিকে ভোটাররা ঠিকভাবে নিরাপদে ভোট দিতে পারলে হিসাবের গণেশ উল্টে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

উল্লেখ্য, ৭ পুরসভার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে দুর্গাপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, পাঁশকুড়া, বীরভূমের নলহাটি ও নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প। এছাড়া উত্তরবঙ্গে আছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ও দক্ষিণদিনাজপুরের বুনিয়াদপুর। এই ৭ পুরসভায় মোট আসন ১৪৮টি। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

সম্পর্কিত বিষয়ঃ   ভারত