শিরোনাম:

ইলিশে নিষেধাজ্ঞা তোলায় খুশি ভারতীয়রা

রাশেদ শাওন
প্রকাশিত : বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:৫৮
অ-অ+
ইলিশে নিষেধাজ্ঞা তোলায় খুশি ভারতীয়রা

ইলিশ রফতানির ওপর থেকে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এতে খুশি ভারতের সীমান্তবর্তী বাঙালিরা। এখন থেকে ‘বৈধভাবে’ ইলিশ কিনে রসনার স্বাদ মেটাতে পারবে তারা।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অর্জনের কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশ সুস্বাদু এই খাবারটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। একে কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে গণমাধ্যমটি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ভাষায়, ‘বাঙালির পরিচয়, মাছে ভাতে বাঙালি। যেকোনো বাঙালির কাছে ইলিশ মাছের চেয়েও বেশি কিছু। এজন্যই একে বলা হয়, মাছের রাজা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের দক্ষিণাঞ্চলের বরাক ভ্যালির ৩০ কোটি বাঙালির সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক ওতপ্রোত।’

বিশ্বের মোট ইলিশের ৭৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। সংরক্ষণের উপায় হিসেবে ২০১২ সালের ১ আগস্ট ইলিশ রফতানি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকার। এতে অসন্তুষ্ট হয় ভারতীয়রা।

গত সোমবার মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ ইলিশ রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এতে পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য অঞ্চলের ইলিশ রফতানিকারকরা খুশি বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মন্ত্রী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞাটি আপাত অকার্যকর মনে হচ্ছে। তাই, চোরাচালান ঠেকাতে আমরা সরকারিভাবেই ইলিশ রফতানি করবো। আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে ও আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যটির চাহিদাও বেড়েছে।’

তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনো নিষেধাজ্ঞা তোলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি। যখনই এটা কার্যকর হবে ইলিশের দামও কমে যাবে ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে জাটকা নিধন বন্ধ হবে। এতে আমাদের ইলিশ সংরক্ষণ হবে।’

পশ্চিমবঙ্গ মাছ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি অতনু দাস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় জেলেদের এখন আর জাটকা ধরতে গভীর সাগরে যেতে হবে না। জাটকাগুলো বড় হতে পারবে। তারা নদীমুখে যাওয়ার সুযোগ পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ মাছগুলো রক্ষা পাবে।’

ব্রেকিংনিউজ/ আরএস