শিরোনাম:

ভারতকে আর পাত্তা দিচ্ছে না মালদ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০২:৪৮
অ-অ+
ভারতকে আর পাত্তা দিচ্ছে না মালদ্বীপ

কয়েক সপ্তাহ আগে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ভারত যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ অসীম। তার সরকারের ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ পলিসি এগিয়ে নিতেই ভারত যান তিনি।
 
সামান্য হলেও শোনা যাচ্ছিল, ইয়ামিন সরকারের সঙ্গে ভারতের নিম্নগামী সম্পর্কোন্নয়নের জন্যই সফরে যান অসীম। কিন্তু তাকে প্রত্যাখ্যা করে ভারত। এরপর থেকে মালদ্বীপের ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ পলিসি ‘চায়না ফার্স্ট’ পলিসিতে রূপ নেয়। কীভাবে হলো এটা?
 
মনে রাখা দরকার, চীনকে মালদ্বীপে ডেকে নিয়েছিল ইয়ামিন নয়, নাশিদ সরকার। ২০১১ সালে রাজধানী মালেতে চীনা দূতাবাস খোলার অনুমতি দেন তিনি। সঙ্গে ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও চীনের জন্য উন্মুক্ত করে দেন অর্থনীতির দরজা।
 
তবে ইয়ামিন সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো উঁচুতে নিয়ে যান। ভারতের সঙ্গেও দেশটির অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। ভারত সরকার মনে করে, মালদ্বীপ ‘রেড লাইনের’ সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন করেছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করে। এক রাতের মাত্র ১৫ মিনিটে চুক্তিটি সংসদে (মজলিস) পাস করিয়ে নেয়া হয়।
 
১৯৮১ সালে মালদ্বীপের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করে ভারত। সে অনুসারে, দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দ্রব্য সরবরাহ করে ভারত। আর কোনো ধরনের বাধা ছাড়া নিজেদের উৎপাদিত যে-কোনো পণ্য ভারতে বিক্রি করতে পারে মালদ্বীপ। এতে দেশটির টুনা রপ্তানি বাড়ে।
 
কিন্তু দিল্লি এখন বুঝতে পারছে, ভারতকে লক্ষ্য করেই চীনের এফটিএ করা হয়েছিল। অবশ্য মোদি সরকারের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করা হবে বলে তখন মালদ্বীপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
 
এফটিএর ফলে চীনা পণ্যের অবাধ প্রবেশ শুরু হয় মালদ্বীপের বাজারে। ১৯৮১ সালের চুক্তিতে ভারতীয় পণ্য শুধু মালদ্বীপে রপ্তানির কথা বলা হয়। তৃতীয় কোনো দেশে তা বিক্রি করা যায় না। অথচ এফটিএর মাধ্যমে মালদ্বীপ হয়ে ভারতের বাজারেও ঢুকতে পারছে চীন। এমনকি শ্রীলংকার বাজারেও।
 
২০১৭ সালে মালদ্বীপ ইস্যুতে বেশ কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। এতে দেশটির সঙ্গে নতুন করে এফটিএ স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মালদ্বীপের সরকার ঘোষণা দিয়েছে, নিজের দ্বীপে চীনা যুদ্ধজাহাজ প্রবেশের অনুমতি দেবে তারা।
 
ইয়ামিনের বিরুদ্ধে এর আগে নাশিদকে সমর্থন দিয়ে তার খেসারত দিতে হচ্ছে ভারতকে। ওই ঘটনার পরই মালদ্বীপে নজর দেয় চীন। ২০১৬ সালে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করে দেশটিকে নিজের বলয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ভারত। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
 
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার চীন সফরে যান মালদ্বীপের বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাঈদ। দেশটিতে চীনা বিনিয়োগ সংরক্ষণে ‘নিরাপত্তা’ চেয়েছেন তিনি। তবে ভারত ক্ষুব্ধ হতে পারে ভেবে এ নিয়ে আপাতত চুপ চীনা প্রশাসন। ইয়ামিন সরকারও যে ভারতের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে উঠছে, সে বিষয়টিও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।
 
ব্রেকিংনিউজ/ আরএস