শিরোনাম:

সোফিয়ার মতো রোবট তৈরিতে বাংলাদেশও সক্ষম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৫৮
অ-অ+
সোফিয়ার মতো রোবট তৈরিতে বাংলাদেশও সক্ষম
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

ঢাকা: সোশ্যাল রোবট হিসেবে সোফিয়া প্রথম, কিন্তু শেষ রোবট নয়। এমন আরো সোশ্যাল রোবট বিশ্বে তৈরি হবে। বাংলাদেশও এমন রোবট তৈরি করতে সক্ষম।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া ডিজিাটল ওয়ার্ল্ড সম্মেলনের প্রথম দিন বুধবার (৬ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত  ‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন বিশ্বের প্রথম নাগরিক রোবট সোফিয়া। 

প্রতিক্ষার প্রহর পেরিয়ে যখন বেলা ৩টা ছুঁইছুঁই, ঠিক তখনই সম্মেলন প্রাঙ্গনের হল অব ফেমের মঞ্চে হাজির করা হয় সোফিয়াকে। চার চাকার ট্রলি সদৃশ একটি বস্তুতে ভর করে এক গাল হেসে উপস্থিত বিমুগ্ধ দর্শকদের সম্ভাষণ জানান তিনি। এসময় সঙ্গে ছিলেন সোফিয়ার উদ্ভাবক ডেভিড হ্যানসন।

মঞ্চে রিকশার হুডে অলঙ্করণে তৈরি চেয়ারে বসে তার সঙ্গে কথোপকোথন শুরু করেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাউছুল আলম শাওন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার শুরুতেই তিনি সোফিয়াকে বাংলাদেশের আসার জন্য অভিনন্দন জানান। 

জবাবে সোফিয়া বাংলাদেশের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘হ্যালো বাংলাদেশ। আই অ্যাম আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইন্ট্রিগ্রেটেড রোবট সোফিয়া।’ 

এবার সঞ্চালক সোফিয়ার পরনের পোশাকের তারিফ করেন। বলেন, ‘ সোফিয়া আপনি যে পোশাকটি পরেছেন তাতে আপনাকে মানিয়েছে বেশ। আপনি কী জানেন, আপনি কী পোশাক পরে আছেন?’ প্রশংসায় কে না খুশি হয়! রোবট হলেও সেও তো বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। তাই খানিকটা হেসে বললেন, ‘আমি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানির তৈরি পোশাক পরেছি। এই জামদানি মিহি সুতার তৈরি। আরামদায়ক এই পোশাকটি পরে আমারও ভাল লাগছে।’ 

এ পর্যায়ে একটি জাতিকে বদলানোর জন্য ডিজিটালাইজেশনের ভূমিকা কী হতে পারে- জিজ্ঞেস করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জবাবে রোবট সোফিয়া বলেন, ‘ একটি জাতিকে বদলাতে হলে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নাই।’ বাংলাদেশও সোফিয়ার মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট তৈরি করতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেন সোফিয়া।

শাওন সোফিয়ার কাছে ইংরেজিতে জানতে চান, ‘সোফিয়া আপনি কী জানেন, এখন কোথায় আছেন?’ জবাবে সোফিয়া জানাল, ‘আমি বাংলাদেশে আছি। এখানে আজ থেকে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শুরু হয়েছে। আমার সামনে হাজারো তরুণ আমার কথা শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।’

এরপর সোফিয়ার উদ্ভাবক ড. ডেভিড হ্যানসন সোফিয়ার মতো অত্যাধুনিক তৈরি গল্প বললেন। এসময় তিনি জানালেন, ছোটবেলা থেকে তিনি রোবট তৈরির স্বপ্ন দেখতেন। তার বিশ্বাস এক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট মানুষের হয়ে কাজ করবে। 

তিনি বাংলাদেশিদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা চাইলে সোফিয়ার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এই সফটওয়্যার ওপেন সোর্সে আছে।' এর মাধ্যমে দেশের অনেক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও জানায় সে। তিনি বলেন পাঁচ বছর পর মানুষের পাশাপাশি রোবটও চলাচল করবে। এমন কি ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে কমপক্ষে ৮০০ মিলিয়ন রোবট তৈরি হবে।

এরপর প্রতিমন্ত্রী সোফিয়াকে আরো কয়েকটি প্রশ্ন করেন। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে তীব্র শোরগোলে দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানের ইতি টানা হয় এক ঘণ্টার মধ্যেই। 
অপরদিকে সেশনে ২০০০ দর্শনার্থী প্রবেশের কথা থাকলেও উপস্থিতির সংখ্যা দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যায়।

অনুষ্ঠান শেষে রোবট সোফিয়া ও এর উদ্ভাবককে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয়। 

ব্রেকিংনিউজ/ ইহক/ এসজেড