শিরোনাম:

ডিজিটাল মেলায় পুলিশের ডিজিটাল কার্যক্রম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৩০
অ-অ+
ডিজিটাল মেলায় পুলিশের ডিজিটাল কার্যক্রম
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

ঢাকা: শুরু করা যাক জরুরি সেবা নিয়ে। দেশের যেকোন স্থানে জরুরি সাহায্যে আপনি এখন শুধু একটি নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পেয়ে যাবেন কাঙ্ক্ষিত সেবা। বাংলাদেশ পুলিশের তত্ত্বাবধানে বড় পরিসরে সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়েছে এই জরুরি সেবা।

আবার ধরা যাক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর কথা। আগের মত থানায় যাবার আর প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। শুধু জরুরি সেবা কিংবা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সই নয় আরো বহুবিধ পুলিশি সেবা সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

নাগরিকসেবা, তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম, অপরাধী শনাক্তকরণসহ বাহিনির নানাবিধ অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান ‘ডিজিটাল মেলা’য় নিজেদের স্টলে বাংলাদেশ পুলিশ প্রচার করছে নিজেদের বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম। মেলায় অংশগ্রহণকারীরা জেনে নিতে পারবেন নতুন আঙ্গিকে চালু হওয়া সব সেবা সম্পর্কে। যারা মেলায় যেতে পারছেন না তারা এ প্রতিবেদনেই জেনে নিতে পারবেন ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে কিভাবে সেবা প্রদান করছে।

জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯:
ডিজিটাল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় উদ্যোগ ৯৯৯। প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা হয়েছে আপনার প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করে অতি দ্রুত ও খুব সহজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে পারেন। আপনার প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোন হতাহত ঘটনা বা আশঙ্কা দেখা দিলে, কোন অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে বা দেখার আশঙ্কা থাকলে, অগ্নিকাণ্ড দেখা দিলে ও অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’ তে কল করুন ৯৯৯ নম্বরে। কল সেন্টারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ।

সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম(সিআইএমএস):
বাংলাদেশে বসবাসরত নাগরিকদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ, ভুয়া নাম ঠিকানা প্রদানকারীদের শনাক্তকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের শনাক্তকরণের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে চালু হয়ে কাজ করছে সিআইএমএস ডাটাবেস।

অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স:
নাগরিকের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চালু হয়েছে অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা। অতি সহজে ঘরে বসেই অনলাইনে এই সাইটে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। যথাযথ আবেদনের পর ঢাকা শহরে ৭ দিন ও জেলা শহরে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে আপনার হাতে পৌঁছে যাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। 

বাংলাদেশ পুলিশ হেল্প লাইন (BD Police Help Line):
স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে যে কেউ নিকটস্থ থানায় সাহায্যের জন্য তথ্য/অনুরোধ পাঠাতে পারেন। প্রেরিত তথ্য একই সাথে থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ দেখতে পারবেন। ফলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ সহজতর হবে। আজই গুগল প্লে স্টোর থেকে বিডি পুলিশ হেলপ লাইন (BD Police Help Line) অ্যাপটি ডাইনলোড ও ব্যবহার করে আপনার সেবা নিশ্চিত করুন।

ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম:
তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে ট্রাফিক পুলিশের প্রসিকিউশন ব্যবস্থা এখন হাতের মুঠোয়। এখন পজ ডিভাইজ এর মাধ্যমে মুহূর্তেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন যাচাই, ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাইসহ মামলা দেয়া হচ্ছে।

হ্যালো সিটি অ্যাপ (Hello CT App):
জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সাইবার ক্রাইম, বিস্ফোরক, মাদক, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, জালিয়াতি ও মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের তথ্য নিজের পরিচয় গোপন রেখে পুলিশ দেয়া যাবে হ্যালো সিটি অ্যাপ (Hello CT App) ব্যবহার করে।

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন এবং অনলাইন ইমিগ্রেশন:
পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে ঘরে বসে চেক করতে পারবেন আপনার পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন এর সর্বশেষ অবস্থা। এজন্য ভিজিট করতে হবে ইমিগ্রেশনের এই সাইটে। তদন্তকারী কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন খুব সহজে। এছাড়া ইমিগ্রেশন সম্পর্কিত যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা জানতেও সহায়তা করবে সাইটটি।

সিটি সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম:
রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে স্থাপন করা হয়েছে সিটি সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম। ট্রাফিক সংক্রান্ত অপরাধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গাড়ি চুরি অপরাধ ও বিভিন্ন পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে স্মৃতিতে ধরে রাখছে সিসিটিভি ক্যামেরার ইলেক্ট্রনিক চোখ। পরবর্তীতে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে বিভিন্ন মামলার আলামত ও সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজে।
 
ই-ট্রাফিক সিকিউশন সিস্টেম:
ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, লাইসেন্স যাচাই, গাড়ি ও গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য এখন হাতের মুঠোয়। ‘পজ’ মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পর সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায়ও চালু হয়েছে ‘পজ’ মেশিনের ব্যবহার।

লাইভ ট্রাফিক আপডেট:
ঢাকা মহানগরীর অন্যতম সমস্যা যানজটে অতীষ্ট নগরবাসীর যাতায়াতকে সহজ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটনের লাইভ ট্রাফিক আপডেট। ডিএমপি’র ট্রাফিক কন্ট্রোলরুমের সহায়তায় রেডিও স্পাইস ৯৬.৪ এফএম প্রচার করছে সড়কের সর্বশেষ অবস্থা।
  
ফেসবুকে বাংলাদেশ পুলিশ:
তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যক্রম মাধ্যমের মধ্যে ফেসবুক অন্যতম। জনসচেতনামূলক বিভিন্ন পরামর্শ, আইনি পরামর্শ ও ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রচার করতে বাংলাদেশ পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে সবসময় জনসম্পৃক্ত রয়েছে।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল:
বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডিএমপি নিউজ। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। সার্বক্ষণিক বস্তুনিষ্ট ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রচার করছে ডিএমপি নিউজ। এখান থেকে আপনি সহজেই দেখতে পারবেন জাতীয়, অপরাধ, পুলিশ, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, বিনোদন ও তথ্যপ্রযুক্তির আপডেট ও খবরাখবর। পাবেন আপনার নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ, পুলিশের বিভিন্ন নির্দেশনা ও কার্ক্রমের সর্বশেষ খবর।

এছাড়াও প্রযুক্তিকে আশ্রয় করে পুলিশের যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য সেবা রয়েছে তার মধ্যে সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি, সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ক্রাইম ডাটাবেস তৈরি, ক্রাইম সিন ভ্যান, ডিএনএ ল্যাব, অনলাইন প্রবাসী সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ প্রবেশ করেছে উত্তম নাগরিক সেবা নিশ্চিতের নতুন যুগে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিনিয়ত নিজেদের দক্ষতা ও কার্যক্রমকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। এসব কিছুর উদ্দেশ্য আসলে জনগণের পুলিশ হয়ে ওঠা, আরো বেশি জনগণের কাছে যাওয়া। কাজটা কিন্তু এককভাবে বাংলাদেশ পুলিশের একার পক্ষে কঠিন। কেননা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পুলিশকে সহায়তার দায়িত্বটা যে জনগণেরও আছে।

ব্রেকিংনিউজ/ এমআরএস/ এসজেড