শিরোনাম:

রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ করা হয়নি: সেনাবাহিনির প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১০:২৮
অ-অ+
রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ করা হয়নি: সেনাবাহিনির প্রতিবেদন

ঢাকা: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জাতিগত ভাবে নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে সেদেশের সেনাবাহিনি। সেনাদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনি।  

রোহিঙ্গা নির্যাতন ও সহিংসতার বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির সেনাবাহিনি। সেখানে এই সহিংসতার কোনোরকম দায় নিজেদের ঘাড়ে নেয়নি সেনারা। প্রতিবেদনে কোনো রোহিঙ্গাকে হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, নারীদের ধর্ষণ বা লুটপাটের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) মিয়ানমারের সেনাবাহিনি তদন্ত প্রতিবেদনের খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। তবে বিবিসি বলছে, বিবিসির প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতনের কিছু চিত্র পেয়েছেন। এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই। 

মিয়ানমার সেনাবাহিনি দাবি করেছে, তারা নিরীহ কোনো গ্রামবাসীর ওপর গুলি চালায়নি, নারীদের প্রতি কোনও সহিংস আচরণ করেনি, তারা সাধারণ গ্রামবাসীকে গ্রেফতার, মারধর বা হত্যা করেনি। সাধারণ মানুষের বাড়ি থেকে মূল্যবান সামগ্রী বা গবাদিপশু লুটের বিষয়টিও অস্বীকার করে সেনাবাহিনি। মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো অপরাধও করেনি বলেও দাবি করা হয়। 

তারা দাবি করছে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এসব ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। এসব সন্ত্রাসীর ভয়েই লাখো মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। 

এ বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র বলেন, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বোঝাই যায় যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো ইচ্ছা নেই। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া। 

চলতি বছরের আগস্ট থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের সহায়তায় মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনি তাদের ওপর আক্রমণ করে এবং নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করতে শুরু করে। 

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ