শিরোনাম:

ট্রাম্পবিরোধী নারী পদযাত্রায় উত্তাল ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:১৮
অ-অ+
ট্রাম্পবিরোধী নারী পদযাত্রায় উত্তাল ওয়াশিংটন

একের পর এক চাপের মুখে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্তির দিন বন্ধ হয়ে যায়  যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম। এরমধ্যেই নারীদের ট্রাম্পবিরোধী পদযাত্রায় উত্তাল হয়ে উঠে যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথ।
 
ঠিক এক বছর আগেও এমন বিক্ষোভ থেকে ট্রাম্পের প্রতি নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেন লাখ লাখ মার্কিন নারী। এবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের বর্ষপূর্তিতেও নতুন উদ্যমে রাজপথে নেমেছেন নারীরা।
 
ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়েছে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলস ও ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরগুলোর রাজপথ। বিক্ষোভের কারণ হিসেবে আয়োজকরা মূলত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তথা নারীর প্রতি তার সহিংস দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করেছেন। নারীর প্রতি কেবল সহিংস দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে।
 
প্রতিবাদের প্রতীক গোলাপি রঙের ‘পুসি হ্যাট’ মাথায় ‘উইমেন্স মার্চ’-এ অংশ নিয়ে ট্রাম্পের প্রতি নিজেদের অনাস্থা ও ঘৃণার জানান দেন নারীরা। বিক্ষোভের তীব্রতা যত বাড়তে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথও যেন ততই গোলাপি হয়ে উঠে। উইমেন্স মার্চ তথা ট্রাম্পবিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই পুসি হ্যাট।
 
শাটডাউন বা সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার মধ্যেই প্ল্যাকার্ড হাতে ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালে জড়ো হন প্রতিবাদী নারীরা। আমেরিকায় ক্রীতদাস প্রথার উচ্ছেদকারী সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই মেমোরিয়াল নির্মিত হয়। এখন সেখানে জড়ো হয়ে যৌন সন্ত্রাসের দায়ে ট্রাম্পের উচ্ছেদ চাইছেন নারীরা। বড় হরফে ‘ইমপিচ’ লেখা বিশাল প্ল্যাকার্ড বহন করে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট দাবি করেন তারা। লোকে লোকারণ্য ন্যাশনাল মল থেকে শুরু করে লিংকন মেমোরিয়াল।
 
আয়োজকরা বলছেন, গত বছরের পদযাত্রার নৈতিক বিজয় তাদের উৎসাহিত করেছে। মূলত নারীদের আয়োজনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলেও সংহতি জানিয়ে এতে অংশ নেন পুরুষরাও। ফলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নারীদের পদযাত্রা রূপ নেয় গণবিক্ষোভে। ওই পদযাত্রায় বিক্ষুব্ধ জনতার লাইন গিয়ে ঠেকে রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। সেখানকার পার্কিং লটও বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে যায়। সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে পড়ে রেল সেবা।
 
২০১৭ সালের উইমেন্স মার্চের আবেদন শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর স্পিরিট ছড়িয়ে পড়ে দুনিয়াজুড়ে। ট্রাম্পবিরোধী নারী পদযাত্রা পরিণত হয় যৌনসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে লন্ডন, সিডনি, টোকিও, বার্লিন, ডাবলিন, দিল্লি’র মতো বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে তখন ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন লাখ লাখ নারী।
 
গত বছর ওয়াশিংটনের নারী পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন লিজ উইডারহোল্ড। ভার্জিনিয়ার এই শিক্ষিকা বলেন, আমার মনে হয় এ বছর হয়তো ক্ষোভের পরিমাণ আরও বেশি। এখন আমরা আরও বেশি ক্ষুব্ধ। কারণ তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউসে অফিস করছেন। এক নিদারুণ বিপর্যয় আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।
 
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা ন্যান্সি পেলোসি, ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ডের মতো ব্যক্তিরাও শনিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেন।
 
সিনেটর কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ড তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা যদি প্রতিনিধি পরিষদে, সিনেটে বিপরীত চিত্র দেখতে চান তাহলে সারা দেশে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের বিজয়ী করুন। এখন আমাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের সময় এসেছে।
 
এ বছরের বিক্ষোভে নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ। যৌন নিগ্রহের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তুলতে টুইটার ছাড়িয়ে এই হ্যাশট্যাগ এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাম্পবিরোধী নারী পদযাত্রায়। যৌন সন্ত্রাসের প্রতিরোধ শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় আবদ্ধ না রেখে রাজপথে এই প্রতিরোধ জারি রাখার কথা বলছেন প্রতিবাদী নারীরা।
 
দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে ২০১৭ সালের বিক্ষোভকে নিরন্তর প্রতিরোধের যাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করেন উইমেন্স মার্চের কো চেয়ার লিন্ডা সারসৌর। তবে যার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভে সেই ট্রাম্প এবার দৃশ্যত কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের মহান দেশজুড়ে সুন্দর আবহাওয়া বিরাজ করছে, পদযাত্রায় অংশ নিতে সব নারীদের জন্য এটি যথার্থ দিন।’
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা