শিরোনাম:

সততাই আমার সাহসের মূল শক্তি: রাসেল আশেকী

এ কে এম ইমরান হোসাইন
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:৫৫
অ-অ+
সততাই আমার সাহসের মূল শক্তি: রাসেল আশেকী

কবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকারকর্মী হিসেবেই জনগণের কাছে বেশি পরিচিত রাসেল আশেকী। এ পর্যন্ত তাঁর ১৫টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি শুধুই কবিতা, সাংস্কৃতিতেই নন রাজনীতিতেও ছিলেন আলোচিত ব্যাক্তি। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মিডিয়া কমিটির সমন্বয়কারী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের বিগত তিনটি সফল সম্মেলনে তিনি তথ্য গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এবার তিনি চান প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে। তিনি চান জনগণের সেবা করতে। তাই আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)উপ-নির্বাচনে  আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি।
 
আওয়ামী লীগে থেকে মনোনয়ন পেলে এবং জনগণের ভোটে বিজয়ী হলে নগরীকে নিয়ে নানান পরিকল্পনা রয়েছে তার। নগরীকে নিয়ে যেসব পরিকল্পনা তিনি করছেন সেসব কথা ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’কে জানিয়েছেন একান্ত আলাপচারিতায়। রাসেল আশেকীর এই একান্ত আলাপচারিতায় ছিলেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিড’র নিজস্ব প্রতিবেদক এ কে এম ইমরান হোসাইন।
 
নগর নিয়ে রাসেল আশেকীর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, একটা জিনিস জীবন থেকে শিখেছি। যেখানেই সমস্যা সেখানেই সমাধান। যেখানেই বিপদ সেখানেই উদ্ধার। জলাবদ্ধতা সমস্যা, যানজটের সমস্যা, সম্পূর্ণ ঢাকায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার সমস্যা, আবাসনের সমস্যা, পরিষ্কার পরিছন্নতার সমস্যা, মশা-মাছির সমস্যা। এগুলো আমরা দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। এখন আমি যদি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পায় তাহলে আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি থাকবে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা।
 
তিনি বলেন, আপনারা যদি হাসপাতালে যান তাহলে দেখতে পারবেন রোগী আর রোগী। এর প্রধান কারণ হিসেবে আমি আমার জীবনের ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলব। আমার যে খাবারগুলো খাচ্ছি প্রত্যকটিতে বিষক্রিয়া রয়েছে। যেগুলো মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং অত্যন্ত ভয়ংকর। এখন যদি আমার এগুলোকে প্রতিরোধ না করতে পারি তাহলে এই শহর হবে একটি রুগ্নতার শহর। আমার প্রথম কাজ হবে শহরের খাদ্যের বিষমুক্ত করা। যেন সুস্থ শরীর নিয়ে শহরের মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। আমি এই শহরকে একটি মানবিক শান্তির শহর হিসেবে দেখতে চাই।
 
রাজধানীর যানজট একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদের এই মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেন, আমার দ্বিতীয় কাজ হবে এই শহরকে যানজট মুক্ত করা। আমরা যদি এই শহরকে যানজটমুক্ত করতে পারি তাহলে আমাদের দেশ যে ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা আরো এগিয়ে যাবে। যদি আমার একটি যানজটমুক্ত শহর উপহার দিতে পারি। শহরকে যানজ মুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে মেট্রোরেল, ওভারপাস, ফ্লাইওভারসহ অনেক কিছু করছে সরকার। যা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আমি যদি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হই তাহলে যানজটমুক্ত করতে আরো যা যা প্রকল্প করা দরকার সব কিছু করব সকলের সমন্বয়ে। আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হই তাহলে নগরপিতা নয়, নগরনেতা নয় বরং নগরবন্ধু হয়ে নগরবাসীর সহযোগী হয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে বসবাসযোগ্য একটি শহর গড়ে তুলবো।
 
রাজধানীর জলাবদ্ধাতা নিয়ে তরুণ এই কবি বলেন, তৃতীয় পরিকল্পনা হবে মশা-মাছি দূর করা। সেজন্য শহরের জলাবদ্ধতা দূর করা হবে। কারণ জলাবদ্ধতা থাকলে মশা-মাছি থাকবেই। তাই এই জলাবদ্ধতা দূর করব। শহরে গ্রীন এবং ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে মশা-মাছি দূর করতে মানব দেহের ক্ষতি না করে যেসব ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয় সেই ক্যামিকেল ব্যবহার করব।
 

মেয়র নির্বাচিত হলে সকল মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবেন উল্লেখ করে আশেকী বলেন, সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দরকার একটি ভাল কেন্দ্রীয় সরকার। আমরা সৌভাগ্যবান কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান হিসেবে আমরা এমন একজনকে পেয়েছি যিনি বিশ্ব মানবতার জননী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি সব সময় চান দেশের সকল মানুষ সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক। এই জন্য তিনি দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমার কাজ হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কিভাবে নগরের কাজগুলো জন্য সহজে বরাদ্ধ নেওয়া এবং তাড়াতাড়ি করা যায় সেই ব্যবস্থা করা। আর এর জন্য সরকারের সকল মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় সাধন করব।
 
নগরের মানুষদের চাহিদা অনুযায়ী সচেতন করে তোলা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সচেতনতা হচ্ছে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল। এই শহরে এলিট শ্রেণী থেকে নিম্ন শ্রেণীর সব ধরনের মানুষের বসবাস। এখন যদি সবাই সবাইকে সহযোগিতা না করি তাহলে এখানে একটা ভারসাম্যহীনতা দেখা দিবে। এর জন্য দরকার সমন্বয়। এর জন্য দরকার সচেতনতার। তার জন্য সবাইকে তাদের নিজ নিজ চাহিদা অনুযায়ী সচেতন করে তুলব। এছাড়া যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে সচেতনার জন্য যা যা করা দরকার তা করব। কারণ আজকের যুবকরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই যুবসমাজকে যেভাবেই মাদক থেকে দূরে রাখা যায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।
 
‘তবে সব পরিকল্পনা ধ্বংস হয়ে যাবে যদি দুর্নীতি থাকে। আমার কাজ হবে প্রত্যেকটি কাজে সচ্ছতা,জবাব দিহীতা এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখা।’
 
ক্ষমতাসীন দল থেকে মেয়র মনোনয়ন প্রত্যাশী এই কবি বলেন, কবিতার সাথে রাজনীতি সাংঘর্ষিক নয়। কবিতার সাথে রাজনীতি পরম্পরাযুক্ত। কবিতা ভাষা সৃষ্টি করে। কবিতা মানুষকে ভিতরকে আবিষ্কার করে। আর রাজনীতি সেটা বাস্তবায়ন করে। আমি রাজনীতিতে কবিতার মাধ্যমে একটা সংস্কৃতি গড়ার চেষ্টা করেছি। যেটা বঙ্গবন্ধুর চেয়েছিলেন। যেটা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান।
 
সততাই সাহসের মূলশক্তি মন্তব্য করে আশেকী বলেন, আমি কোনো একটা কথার বরখেলাপ করিনি এখন পর্যন্ত। কোনো দুর্নীতি করিনি। রাজনীতিতে কোনো জায়গায় আমার বাড়াবাড়ি নেই। আমাকে অসংখ্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিগত দুইটি জাতীয় নির্বাচনে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের যারা নীতিনির্ধারক তারা সবাই আমাকে স্নেহ করেন। সেই স্নেহ এবং ভালবাসা থেকে আমি কোন প্রকার আর্থিক অনিয়মে জড়িত হয়নি। নিজেকে স্বচ্ছ রাখার জন্য যতটুকু করা দরকার ততটুকু আমি করেছি। আমি এসব থেকে জেনেছি মানুষ ইচ্ছা করলে সব কিছু করতে পারে। আনিস ভাই স্বচ্ছ লোক ছিলেন। কোনোদিন কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন না বিধায় তিনি খুব বড় বড় সাহসিকতার কাজ করতে পেরেছেন। আমি প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। কারণ আমার মূল শক্তি আমি দুর্নীতিবাজ নই। সততাই আমার সাহসের মূলশক্তি।
 
এসময় তিনি নগর বাসীর উদ্দ্যেশে একটি বার্তা দেন- ‘গড়ব শান্তির শহর, হাসবে বাংলাদেশ।’
 
ব্রেকিংনিউজ/আইএইচ/জিয়া