শিরোনাম:

অপেক্ষায় ৭ খুন মামলার হাইকোর্টের রায়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৯:১৩
অ-অ+
অপেক্ষায় ৭ খুন মামলার হাইকোর্টের রায়
ফাইল ছবি

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আজ রবিবার (১৩ আগস্ট) ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। এ লক্ষ্যে ওই বেঞ্চের কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে মামলাটিকে রাখা হয়েছে।

শনিবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যতালিকা বিষয়টি দেখা যায়। এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের (১৩ আগস্ট) দিন ধার্য করে গত ২৬ জুলাই মামলার শুনানি সমাপ্তি ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

এর আগে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ ৩৩ কার্যদিবস ব্যাপী শুনানি করেন। শুনানিতে র‌্যাবের তারেক সাঈদ, কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বহালের আবেদন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল মান্নান মোহন। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন এসএম শাজাহানসহ একাধিক আইনজীবী।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‌্যাবেব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান চার্চিল, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহজাহান ও জামাল সর্দার।

১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন ও করপোরাল মোখলেছুর রহমানকে।

নিম্ন আদালতের রায়ে বলা হয়, এই মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে ২৫ জনই সশস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য। বাকিরা সাধারণ মানুষ।

এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা কারাবন্দি তারা হাইকোর্টে আপিল করেন। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।

এরপরই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এই মামলা দ্রুত শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেয়। পরে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য মামলার সকল নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। ২৬০০ পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত করে বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ তা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়। 

এরপরই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য বেঞ্চ পুনঃগঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। গত ২২ মে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।

ব্রেকিংনিউজ/ এজেডখান/ এসএ