শিরোনাম:

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে: আইনমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৩:০৯
অ-অ+
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে: আইনমন্ত্রী

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘ইতিহাস বিকৃতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে কোনও একক নেতৃত্ব নেই, সেটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। এ কথাটির মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। ইতিহাস ঘেঁটে এ রকম কোনও কথা খুঁজে পাওয়া যায়নি।’   

রবিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আনিসুল হক বলেন, ‘ইতিহাস যে বিকৃত হয়েছে, তা নিশ্চিত। তবে এটি অসদাচরণ কি-না তা খতিয়ে দেখতে হবে, এ বিষয়ে অথরিটি রাষ্ট্রপতির’। 

আনিসুল হক বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী রায়ের বিরুদ্ধে এখনও রিভিউর সিদ্ধান্ত হয়নি, রায়ের পুরো বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি করতে অনেক সময়ের ব্যাপার। ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়টি দীর্ঘ সময় নিয়ে পড়ার প্রয়োজন রয়েছে। রায়টি পড়ে দেখতে হবে কোথায় রিভিউ করার মতো পয়েন্ট রয়েছে। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময়ের প্রয়োজন। 

প্রধান বিচারপতি শান্তি কমিটির সদস্য বা রাজাকার ছিল কিনা এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির চেয়ারটি একটি প্রতিষ্ঠান, এর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। এর আশেপাশে অনেক কিছুর প্রতি আমাদের চোখ বন্ধ করে রাখতে হবে।’ 

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে নিয়ে এমপি-মন্ত্রীদের করা মন্তব্যে তাদের শপথ ভঙ্গ হবে কিনা এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এর রায়ে আমাদের এমন একটি জায়গায় আঘাত করা হয়েছে যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। তবে আদালতের প্রতি আমরা সব সময় শ্রদ্ধাশীল।’ 

এ সময় মন্ত্রী আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা সম্পর্কে বলেন, ‘নিজেদের অপরাধের ধারা মনে করবেন না। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সাইবার ক্রাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি মোকাবেলা করার জন্যই এই আইন করা হয়েছে। তবে আমরা জানি এটি নিয়ে আপনাদের আপত্তি রয়েছে। সেই জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে যে নতুন আইনটি করা হবে এতে ৫৭ ধারাতে আপনাদের যে আপত্তি রয়েছে তা পরিষ্কার করা হবে। এমন কোনও আইন করা হবে না, যা সাংবাদিকবান্ধব না।’ 

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার প্রসঙ্গে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা প্রক্রিয়া করার দরকার তা চলমান। এই বিষয়ে কানাডা ও আমেরিকা সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিচার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’ 

সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি শেখ হাসিনা দূর করেছেন।  স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর মানবতাবিরোধীদের বিচার হয়েছে। এই (সাগর-রুনি) হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত শেষ হওয়ায় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা সকলেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’ 

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরের কারণে শূন্য হওয়া বিচারকের পদ পূরণ ও নতুন বিচারক তৈরিতে সরকারের পদক্ষেপ সব সময়ই চলমান। বিচারকের যেন কখনোই শূন্যতা না দেখা দেয়, সেজন্য বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’ 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী প্রমুখ। 

ব্রেকিংনিউজ/ এএইচ/ এসএ /এমআর