শিরোনাম:

৩ মাস পর ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু

স্টাফ করেসপন্ডেট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭, ০৫:১৯
অ-অ+
৩ মাস পর ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু

ঢাকা: তিন মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার ফের বিচারকাজ শুরু হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুালে।

জামায়াত নেতা আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া (৬৫) ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় আসামির মামলাটি ফের যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করে মামলার কার্যক্রম শুরু করেন নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারিক কাজে সহযোগীতার জন্য উভয়পক্ষের আইনজীবীদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
 
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ কথা বলেন।
 
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এজলাসে ওঠেন পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও দুই সদস্য। শুরুতেই ট্রাইব্যুনালের প্রয়াত চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হককে স্মরণ করে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। পরে চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত দুই সদস্যকে রাষ্ট্রপক্ষ এবং উপস্থিত আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
 
এসময় উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনাদের সহযোগিতায় ট্রাইব্যুনাল সুষ্ঠু ও ধারাবাহিকভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করে আসছে। আগামী দিনেও সেই সহযোগিতা আপনারা অব্যাহত রাখবেন বলেও আমরা প্রত্যাশা করছি।’
 
এর আগে গতকাল আইন সচিব আবু সালেহ শেখ জহিরুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা বিচারপতি শাহিনুর ইসলামকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে নতুন দুই সদস্য করা হয়, হাই কোর্টের বিচারপতি আমির হোসেন এবং পিআরএলে থাকা জেলা ও দায়রা জজ আবু আহমেদ জমাদার।
 
কর্মদিবসে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, মোখলেছুর রহমান বাদল, সুলতান মাহমুদ সীমন, ঋষিকেশ সাহা, জাহিদ ইমাম, তাপস বল, সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নিসহ প্রসিকিউশন টিমের ১১ সদস্য ও আসামি পক্ষে ছিলেন গাজী তামিম, আব্দুস সাত্তার পালোয়ানসহ তিনজন আইনজীবী। এ সময় উভয় পক্ষই পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালকে অভিনন্দন জানায়।
 
পরে বঙ্গবন্ধুসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের শুরু থেকে প্রসিকিউশন দায়বদ্ধ। ঐতিহাসিক এ বিচারকাজে শুরু থেকে প্রসিকিউশন সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করে আসছে। সে সহযোগিতা ভষ্যিতেও অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 
এরপর ট্রাইব্যুনাল গাইবান্ধার সাবেক সাংসদ জামায়াত নেতা আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া (৬৫) ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি পুনরায় শুনানির আদেশ দেয়।
 
নতুন রুপে ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সদস্য সানাউল হক বলেন, ট্রাইব্যুনাল পূর্ণগঠন হওয়ায় আমরা খুশি। এখন থেকে পূর্ণ গতিতে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হবে।

তিনি বলেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিচারিক কাজ পরিচালনা করে ট্রাইব্যুনালে জমে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
 
প্রসিকিউটর হায়দার আলী বলেন, ‘নতুন করে ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ শুরু হওয়ায় প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের মধ্যে কাজের চাঞ্চল্যতা ফিরেছে। আজকে একটি মামলার তারিখও ধার‌্য করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ট্রাইব্যুনালে জমে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে ‘
 
আজকের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত নেতা আব্দুল আজিজসহ ছয়জনের মামলাটি বিচারিক কাজ শেষে গত ৯ মে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছিল বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
 
উনার মৃত্যুর পর বুধবার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে নতুন দুই সদস্য যুক্ত হয়েছেন, ফলে মামলাটির যুক্তিতর্ক আবার শুনবে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে আবার এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হবে।
 
গাইবান্ধার সাবেক সাংসদ জামায়াত নেতা আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া (৬৫) ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় যে কোনো দিন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
 
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, আটক, অপহরণ, লুণ্ঠন ও নির্যাতনের তিনটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই ছয় আসামির বিরুদ্ধে।
 
আজিজ ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), নাজমুল হুদা (৬০) ও আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গতবছর ২৮ জুন এই ছয় আসামির বিচার শুরু করে আদালত। আসামিদের মধ্যে লতিফ ছাড়া সবাই পলাতক।
 
এ পর্যন্ত ২৮টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ৭টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে আরও ১৭টি মামলা।  
 
আপিলের চূড়ান্ত সাত রায়ে জামায়াতের দুই সহকারী সক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রাখে।
 
এছাড়া আপিলে শুনানি চলার মধ্যইে জামায়াতের আমীর গোলাম আযম বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিলও নিষ্পত্তি হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০১০ সালরে ২৫ মার্চ পুরাতন হাই কোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
 
পরে মামলা বাড়ার কারণে ২০১২ সালরে ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মামলা কমে আসায় ২০১৩ সালরে ১৩ অক্টোবর দুটি ট্রাইব্যুনাল পুর্নগঠন করা হয়। একইসঙ্গে স্থগিত করা হয় ট্রাইব্যুনাল-২ এর কার্যক্রমও।   
 
গত ১৩ জুলাই বিচারপতি আনোয়ারুল হকের মৃত্যুর পর থেকেই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ খালি ছিল।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এজেডখান/ এমএইচ