শিরোনাম:

সিদ্দিক হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারী রিমান্ডে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:১৮
অ-অ+
সিদ্দিক হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারী রিমান্ডে

ঢাকা: রাজধানীর বনানীতে অফিসে ঢুকে আদম ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হেলাল উদ্দিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৬ ডিসেম্বর)  ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন। 

মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে এ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক বিপ্লব কিশোর শীল। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন।

এরআগে মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে হেলাল উদ্দিনকে(৩৮) গ্রেফতার করে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ও ডিবি (উত্তর) বিভাগ। উদ্ধার হয় ৪টি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ১টি ৯ এমএম পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি।

ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার নেতৃত্বেই ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসাইনকে হত্যা করা হয়। তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হেলালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদের  ধরতে অভিযান অব্যহত রেখেছে।

এরআগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রবাসী সন্ত্রাসীর নির্দেশে রাজধানীর বনানীতে অফিসে ঢুকে আদম ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমানকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে বর্তমানে ইউরোপে অবস্থান করছেন এই সন্ত্রাসী।বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ইউরোপ প্রবাসী এক সন্ত্রাসী ঢাকায় তার বন্ধু হেলাল উদ্দিনকে (৩৮) ওই ব্যবসায়ীকে হত্যার নির্দেশ দেয়। পরে হেলাল উদ্দিন কন্ট্রাক্টে ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাতে ‘এমএস মুন্সি ওভারসিজ’ নামে রিক্রুটিং এজেন্সির কর্ণধার সিদ্দিক হোসেন মুন্সিকে (৫০) গুলি করে হত্যা করে চার দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তা মির্জা পারভেজ (৩০), মোখলেসুর রহমান (৩৫) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩৯) গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বনানী থানায় নিহত ব্যবসায়ী সিদ্দিকের স্ত্রী জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত সিদ্দিক হোসেন মুন্সি তার স্ত্রী জোসনা বেগম, দুই মেয়ে সাবরিনা সুলতানা ও সাবিহা সিদ্দিক এবং ছেলে মেহেদী হাসানকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর সড়কে একটি বাসায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। নিহত সিদ্দিকুরের বুকের বামপাশে একটি গুলি ঢুকে পিঠের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। আর একটি গুলি তার বাম হাতে লাগে।

সিসিটিভির ফুটেজে চারজন সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে নগরবাসী তথা জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছিলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এরপর গত ২৩ নভেম্বর বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যা মামলার তদন্তভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়

ব্রেকিংনিউজ/এমআরএস/এনএআর