শিরোনাম:

‘সাগর-রুনি হত্যা’য় স্বপ্রণোদিত রুল চায় সাংবাদিকরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৩:৩৬
অ-অ+
‘সাগর-রুনি হত্যা’য় স্বপ্রণোদিত রুল চায় সাংবাদিকরা

৬ বছর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ৫৪ বার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার মেয়াদ বাড়ায় সাংবাদিক সমাজ প্রসাশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে আদালতকে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করার অনুরোধ জানিয়েছে। 

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে এক সমাবেশে আদালতকে এমন উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন। 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কেন ৬ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্য কোন কারণ আছে কি? আমরা জানতে চাই। কেন তারা বারবার ব্যর্থতার তকমা নিচ্ছে।’ 

সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে না একথা রাষ্ট্র, প্রসাশন প্রকাশ্যে বলুক আমরা মেনে নেবো। এমন মন্তব্য করে আরও তিনি বলেন, ‘সারগ-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ধারাবাহিক কর্মসূচি ডিআরইউ পালন করবে।’ 

‘চাঞ্চল্যকর এই হত্যার কোনো ক্লু বের হচ্ছে না, এ থেকে প্রমাণ হয় প্রসাশন ব্যর্থ’- যোগ করেন তিনি। 

সমাবেশে ডিআরইউ সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ‘খুনিরা ধরা না পড়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থেকে ডিআরইউ সরে আসবে না। আন্দোলনও চলবে।’ 

ডিআরইউ একজন সদস্য বেঁচে থাকা পর্যন্ত এই হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এই হত্যার বিচারের দাবিতে কোনো কমিটি কিংবা কোনো ক্যাম্পিং কিছুই করিনি। নেতারা এক হতে বলেন, কিন্তু তারা তা মানেন না।’ 

তিনি বলেন, ‘আগামী বছর যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা না হয়। সাংবাদিক দম্পতির ছেলে-মেয়েকে যেন এখানে দাঁড় করিয়ে আমরা বলতে পারি বিচার হয়েছে।’ 

এসময় এই দিনটিকে ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তারহীনতার দিন’ বলে উল্লেখ করেন ডিআরইউ সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু। 

এছাড়া সমাবেশে সাংবাদিক নেতাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ৪০ বছর পরে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে হয়েছে। তাহলে কেন এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচার হবে না? 

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, ডিআরইউ সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, মোরসালীন নোমানি, ইলিয়াস হোসেন ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।

এদিকে সমাবেশ শেষে ডিআরইউ থেকে একটি মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  

স্মারকলিপিতে উল্লেখ রয়েছে: ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজা বাজারের ভাড়া বাসায় নির্মম ভাবে খুন হন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহরুন রুনি। দেখতে দেখতে ৬ বছর হয়ে গেল, কিন্তু এখনও সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর ও রুনির খুনিদের শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে খুনিদের শনাক্ত করার জোর উদ্যোগের কথা জনানো হলেও কার্যত অগ্রগতি বলতে কিছুই নেই। ঘটনার শুরু থেকে শেরেবাংলা নগর থানা, সিআইডি ও ঢাকা মহানগর গয়েন্দা পুলিশ মামলার তদন্ত করেছে। বর্তমানে মামলাটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব) তদন্তাধীন। র‌্যাব এ পর্যন্ত ৫৩ বার সময় নিয়েও মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেনি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত আট জনতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন এখন জামিনে রয়েছে। 

মাননীয় মন্ত্রী, মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির পরিবার, তাদের সহকর্মী এবং সাংবাদিক সমাজ হতাশ। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি কেন খুন হলেন? কারা এই খুনের সাথে জড়িত তা জনতে চায় দেশবাসী। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসল খুনিদের মুখোশ উন্মোচনে আপনার হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) পক্ষ থেকে আপনার কাছে জোর দবি জানাচ্ছি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সুরাহা করবেন।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/ডিএমসি/এমআর