শিরোনাম:

‘বিচারপতি খায়রুল হক জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০১৭, ০৪:৪৯
অ-অ+
‘বিচারপতি খায়রুল হক জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন’

ঢাকা: ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সংক্ষিপ্ত রায় পরিবর্তন করে ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. আসিফ নজরুল এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হক সংক্ষিপ্ত রায়ের ১৬ মাস পর নিজের রায় পরিবর্তন করে যে রায় দিয়েছিলেন, সেটি ছিলো ফৌজদারি অপরাধ।’ আসিফ নজরুল  বলেন, ‘আমি মনে করি যে, কোনও বিচারে এটি একটি প্রতারণা। এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা। এর খেসারত আমাদেরকে কতভাবে দিতে হচ্ছে।’

শনিবার (১২ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘আইনের শাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি এর আয়োজন করে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বর্তমানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক এই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় ঘোষণা করে  আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অবৈধ  হয়ে যায়। সংক্ষিপ্ত রায়ের এক বছরের বেশি সময় পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টম্বর ৩২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. রেদওয়ানুল হক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার যেটি মনে হয়েছে শুধু মানুষ গুম হয়নি। গুম হয়েছে আইনের শাসন, গণতন্ত্র। এমনকি রাষ্ট্রও গুম হওয়ার পথে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এখানে আলোচনা করছি আইনের শাসন রক্ষার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কি হওয়া উচিত? তখন আমার মনে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাদ দেন। তার চেয়ে অনেক বড় যারা মানুষ, যারা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন, যারা এখনও প্রধান বিচারপতির মর্যাদা নিয়ে বেতন নিয়ে আইন কমিশনের প্রধান হিসেবে আছেন। যারা শপথ নিয়েছেন, সংবিধানের নামে মন্ত্রী হিসেবে তারা যেসব কথা বলছেন তাতে সব কিছু আইনের লঙ্ঘন।’

এতো বড় ব্যক্তিরা আইন লঙ্ঘন করছেন তাদের শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা কি আমাদের আছে- এমন প্রশ্ন করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি আইন কমিশনের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এমন সব কথা বলছেন।  যা আদালত অবমাননামূলক।’

তিনি বলেন, ‘আইন কমিশনের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক ৭ জন বিচারপতির সর্ব সম্মতিক্রমে দেয়া রায় সম্পর্কে যে সমস্ত মন্তব্য করেছেন তা আইনের লঙ্ঘন। এ রায়কে তিনি পূর্ব পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেছেন; তাতে কি তিনি বলতে চাচ্ছেন এটি তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে রায় না। আইন কমিশনে বসে এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে উনি (খায়রুল হক) ওনার চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন।’

আগেও তিনি বহুবার আইন লঙ্ঘন করেছেন এমন অভিযোগ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এমন ব্যক্তির তো জেলখানায় থাকার কথা। জেলখানায় থাকার যোগ্য ব্যক্তি আইন কমিশনের প্রধান হয়ে আইন কমিশন ব্যবহার করে আদালত অবমাননার বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে রাষ্ট্র।’

তিনি বলেন, ‘এমনসব ব্যক্তিরা যখন আইন লঙ্ঘন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা আমাদের বর্তমান প্রধান বিচারপতিরও নেই। তাহলে এই রাষ্ট্রে আইনের শাসন কীভাবে থাকবে?’

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম কালো আইন বলেও মন্তব্য করেন নজরুল। তিনি বলেন, ‘এর থেকে কালো আইন বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়নি।’

৫৭ ধারা এবং আদালত অবমাননার আইনের প্রয়োগে দেশে যে বৈষম্য হচ্ছে তা নজিরবিহীন দাবি করে তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে বৈষম্যমূলক প্রয়োগ আর হতে পারে না। সরকার বা তাদের কারও বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা হয়। অথচ দিনের পর দিন দেখি সরকার পক্ষের লোকজন সবার সম্পর্কে আজেবাজে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ড. কামাল হোসেন, ড. ইউনুস, এবিএম মূসা বলেন কাউকে বাদ দেয়নি।’ কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হলে আদালতের গ্রহণ করার ক্ষমতা আছে কি এমন প্রশ্ন করেন তিনি।  

ব্রেকিংনিউজ/এজেডখান/এনএআর