শিরোনাম:

আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০১৭, ০৮:০৪
অ-অ+
আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা
আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ

ঢাকা: আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। চোরাচালানের মাধ্যমে আনা প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আটকের ঘটনায় এবং এসব মূল্যবান সামগ্রী কর নথিতে অপ্রদর্শিত ও গোপন রাখায় এই মামলা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মঈনুল খান ব্রেকিংনিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে শনিবার (১২ আগস্ট) গুলশান থানায় ২টি (মামলা নং ১৫ ও ১৬), ধানমন্ডি থানায় ১টি (মামলা নং ১০), রমনা থানায় ১টি (মামলা নং ২৭) ও উত্তরা থানায় ১টি করে (মামলা নং ১৭ ) মোট ৫ টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

শুল্ক গোয়েন্দার ৫ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা যথাক্রমে এম. আর জামান বাধন, বিজয় কুমার রায়, মো. শাহরিয়ার মাহমুদ, মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং মো. আরিফুল ইসলাম-এই মামলাগুলোর বাদী। 

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মামলার অভিযুক্তরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক ৩ জন। যথাক্রমে দিলদার আহমেদ সেলিম, গুলজার আহমেদ এবং আজাদ আহমেদ। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনার আলোকে এ মামলাগুলো করা হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ধারা ২ (ঠ) এবং কাস্টমস এ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর ধারা ১৫৬(৫) অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা এই মানিলন্ডারিং মামলাগুলোর তদন্ত করবে। 

এর আগে আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে শুল্ক-করাদি ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার মজুদ করার অভিযোগে দি কাস্টমস এ্যাক্ট, ১৯৬৯ অনুযায়ী কাস্টম হাউস ঢাকায় ৫টি কাস্টমস মামলা বিচারাধীন রয়েছে।এছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার মজুদ, মেরামত, তৈরি, বিক্রয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত ভ্যাট ফাঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলো কাজ করছে।  আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত স্বর্ণ দেখানোর কারণে সংশ্লিষ্ট আয়কর জোনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনীত স্বর্ণের অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহার করেছে। একইসাথে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ আয়কর নথিতে প্রদর্শন না করে এর উৎস গোপন করেছে। 

তাদের এসব  কার্যকলাপ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ধারা- ২ এর (ফ)(ই) এবং ২(শ)(১৮) অনুযায়ী মানিলন্ডারিং হিসেবে বিবেচিত, যা একই আইনের ধারা-৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। 

বনানীর  রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আপন জুয়েলার্সের ৫ টি শোরুম থেকে প্রায় ১৫ মণ অলঙ্কার জব্দ করা হয়। পরে এসব অলঙ্কার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়।

ব্রেকিংনিউজ/এমআই/এনএআর