শিরোনাম:

দলগুলোর ‘সমঝোতায়’ রিস্ক নেবে না ইসি: সিইসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৭, ০৩:৫১
অ-অ+
দলগুলোর ‘সমঝোতায়’ রিস্ক নেবে না ইসি: সিইসি
ছবি: জুয়েল রানা

ঢাকা: আলোচনা, সংলাপ, মতবিনিময় হতে পারে, কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘সমঝোতা’ সৃষ্টিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনও ভূমিকা নেই এবং নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে কোনও রিস্ক নেবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

সেই সঙ্গে দল বা কারো চাওয়া পাওয়ায় ভোটে সেনাবাহিনি নিয়োজিত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে এক পর্যায়ে প্রশ্নোত্তরে এ কথা জানান সিইসি।

সব দলকে নির্বাচনে আনতে ‘মধ্যস্থতার’ ভূমিকা নিতে গণমাধ্যমের সুপারিশের বিষয়ে ইসি কোনও ভূমিকা নেবে কিনা- সাংবাদিক প্রতিনিধিদের এমন প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আমার মনে হয় না; আমি নিতে চাই না।’

সিইসি এ ব্যাপারে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একমত না। আমি নির্বাচন করবো। আমরা সবাই ভুলে যাই- আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক মেডিয়েটর এসে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসেও সমাঝোতায় আসতে পারেনি। সেখানে আমি কেন সে রিস্ক নিচে যাবো? অযথা সময় নষ্ট করার জন্যে? এটা আমার কাজ না। ভেরি ফার্মলি- এটা আমার কাজ না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটে সেনাবাহিনি মোতায়েন ইসির সিদ্ধান্তে হবে। কেউ চাইবে, না চাইবে তার ওপর হবে না। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। দরকার মনে না করলে সেনাবাহিনি আসবে না।’

এটা সম্পূর্ণভাবে ইসির ওপর ছেড়ে দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন সিইসি।

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের সংলাপে শুধুই আলোচনা হবে, কারো আসা-না আসার বিষয়ে কোনও আলোচনা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে ডায়ালগ করবো পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে, এটা শুধুই ডায়ালগ। আমরা তাদের কথা শুনব, তারা আমাদের কথা শুনবে। উভয়েই পজেটিভ মতামতগুলো নিয়ে মূল্যায়ন করবে। কে আসবে না আসবে তা নিয়ে আমাদের কোনও ইস্যু থাকবে না সংলাপে।’

নির্বাচনকালীন চাপের মুখে পড়লে কী করবেন? সংলাপে অংশ নেয়া গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটির সুযোগ নেই। কারও কাছে যদি আমরা আত্মসমর্পণ করি তাহলে এটি আমাদের দুর্বলতা। এটি আমরা কখনোই কোনও ভাবেই করবো না। কারণ, আমাদের কারও কাছে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণে ইসি ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন’ ও ‘স্বাধীন সত্তা’ নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন সিইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনকালীন আমাদের কোনও চাপের মুখে পড়ার সুযোগ নেই। সে চাপের মুখে আমরা পড়বও না। এ যদি আমাদের শপথ থাকে, এটা যদি আমাদের অঙ্গীকার থাকে- তাহলে চাপের মুখেও আমরা কখনও কম্প্রোমাইজ করবো না; নতি স্বীকার করবো না। ইটস্ এনাফ, আর কোথাও যেতে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সহায়তার জন্য এবার আর কোথাও যাব না, এটা আমার অঙ্গীকার। এজন্যে আপনাদের সাক্ষী রেখেই এ কথাগুলো বলছি।’

এর আগে সকাল ১০টায় ইসির সম্মেলন কক্ষে সিইসির সভাপতিত্বে গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে সংলাপ ও মতবিনিময়।

এসময় নিজেদের মতামতের পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সিইসি। চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল বুধবার (১৬ আগস্ট) ইসির সঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচনী সংলাপে ২০টি সুপারিশ তুলে ধরেন দেশের দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চতকরণে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েনসহ নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন তারা। সাংবাদিকরা কমিশনের কাছে সর্বোপরি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ দাবি করেন। বৃহস্পতিবার ইসির সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের’ বিষয়টি সাংবাদিক প্রতিনিধিদের মতবিনিময়ে। 

এর আগে গত ৩১ জুলাই ইসির সঙ্গে সংলাপে বসে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। ওই সংলাপে নাগরিক সমাজ জনগণের আস্থা অর্জন করতে ইসিকে পরামর্শ দেন। সংলাপে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ইসি যে দৃঢ় এবং স্বাধীন কমিশন এটি জনগণকে বুঝাতে হবে। এ বিষয়টি দৃশ্যমান ও প্রতীয়মান হতে হবে। একই সঙ্গে সংলাপে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও তাগিদ দেন সুশীলরা। ওই বৈঠকে প্রায় ৩০ জন নাগরিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআই/এমআর